পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরের পর বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে বিশ্লেষকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে আছে ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত তিনটি ইস্যু।
পাকিস্তানের দাবি বনাম বাংলাদেশের অবস্থান
ইসহাক দার দাবি করেন, ১৯৭১ সালের গণহত্যা নিয়ে ক্ষমা চাওয়া এবং অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুর সমাধান আগেই হয়ে গেছে— ১৯৭৪ সালে জুলফিকার আলী ভুট্টো ও ২০০০ সালে পারভেজ মোশাররফের সময়। তবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা একমত নন। তাঁদের মতে, ভুট্টো ও মোশাররফের বক্তব্য ছিল ব্যক্তিগত ‘দুঃখপ্রকাশ’, যা কোনোভাবেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমা নয়। বাংলাদেশ চায়, পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমা চাই।
তিনটি অমীমাংসিত ইস্যু
১. ১৯৭১ সালের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া
২. ৪২০ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া — যা ১৯৭১-এর আগে বাংলাদেশের জনগণের পেনশন ও আমানতের অর্থ।
৩. আটকে পড়া উর্দুভাষীদের প্রত্যাবাসন — পাকিস্তান তাদের নাগরিক হিসেবে ফিরিয়ে নেবে।
চুক্তি ও সমঝোতা
ঢাকা সফরে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়— ভিসা বিলোপ, বাণিজ্য সংক্রান্ত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সহযোগিতা। তবে বিশ্লেষকরা এসব চুক্তিকে ‘গুরুত্বহীন’ হিসেবে দেখছেন।
ড. মাহফুজ কবির খান মনে করেন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি সই করা জরুরি ছিল। পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য ২৫ কোটি মানুষের একটি বড় বাজার হলেও রপ্তানি কম হওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে। সোর্স ডয়চে ভেলে(DW)

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ মনে করেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়লে দুই দেশই লাভবান হবে। তবে তিনি সতর্ক করেন, পাকিস্তানের অর্থনীতি বাংলাদেশের তুলনায় দুর্বল, তাই বাংলাদেশকে নিজেদের সুবিধা কাজে লাগাতে হবে।

সার্বিক বিশ্লেষণ
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান সম্পর্ক উন্নয়নে আগ্রহী হলেও ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ইস্যুগুলো এড়িয়ে যেতে চাইছে। এই প্রশ্নগুলোর সমাধান না হলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস গড়ে উঠবে না। তাই, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলোর সুরাহাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন তারা।





