ডিপ্লোমা প্রকৌশলী বনাম বুয়েট শিক্ষার্থীদের দ্বন্দ্বে উত্তপ্ত প্রকৌশল অঙ্গন

ঢাকা, ২৭ আগস্ট:বাংলাদেশে প্রকৌশল পেশার সংজ্ঞা, যোগ্যতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ…

ঢাকা, ২৭ আগস্ট:
বাংলাদেশে প্রকৌশল পেশার সংজ্ঞা, যোগ্যতা ও কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা বিতর্ক নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

পেশাগত পরিচয় ও মর্যাদার দাবি

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা নিজেদের “উপ-সহকারী প্রকৌশলী” পরিচয়ে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, প্রকৌশল ক্ষেত্রের উন্নয়নে তাদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মনে করেন, প্রকৌশলী হিসেবে পরিচিত হওয়ার ন্যূনতম যোগ্যতা হলো ব্যাচেলর অব সায়েন্স (বিএসসি) ডিগ্রি। তাই তারা ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদেরকে “প্রযুক্তিবিদ” হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলেছেন।

নিয়োগে কোটা বনাম মেধা

সরকারি চাকরিতে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে শতভাগ কোটা সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা। এ দাবিকে বুয়েট শিক্ষার্থীরা বৈষম্যমূলক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, নির্দিষ্ট ডিগ্রির জন্য শতভাগ কোটা রাখলে বিএসসি ডিগ্রিধারীরা বঞ্চিত হবেন। এ বিষয়ে তাদের প্রধান স্লোগান— “মেধাই হবে প্রধান যোগ্যতা”।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন

ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা দাবি করছেন, তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা প্রকৌশল খাতে অপরিহার্য। অন্যদিকে, বুয়েট শিক্ষার্থীরা উচ্চ শিক্ষাগত মান বজায় রাখার মাধ্যমে পেশার মান রক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন।

শিক্ষা ও পেশার মর্যাদা ঘিরে এই দ্বন্দ্ব কেবল দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বাংলাদেশের প্রকৌশল শিক্ষা, কর্মসংস্থানের কাঠামো এবং প্রকৌশল পেশার ভবিষ্যৎ মানদণ্ড নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।