জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক

নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর — জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন…

ছবি প্রধান উপদেষ্টার ফেইসবুক থেকে নেওয়া

নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর — জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

সাক্ষাৎকালে দুই নেতা বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, জাতিসংঘ সংস্কার, রোহিঙ্গা সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, আসিয়ান-এ যোগদানের বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টা, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার প্রক্রিয়া, এবং নেপাল-ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগসহ নানাবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

প্রফেসর ইউনূস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৪ মাসে আমাদের সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অভূতপূর্ব।”

তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করতে বদ্ধপরিকর, যাতে দেশের ১২ কোটি ৬০ লাখ ভোটার শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন।

“গত ১৫ বছর জনগণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন তারা আগ্রহভরে ফেব্রুয়ারির অপেক্ষায় আছে,” যোগ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

প্রফেসর ইউনূস প্রেসিডেন্ট স্টাবকে জানান যে বাংলাদেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার কার্যক্রম চলছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো শিগগিরই জুলাই সনদ-এ স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে, যা গভীরতর রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের বিচার তাঁর সরকারের শীর্ষ অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড মেনেই এসব বিচার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি জোর দিয়ে জানান।

“বিচারের মুখোমুখি হয়েও তিনি উসকানিমূলক ও অস্থিতিশীলতামূলক মন্তব্য চালিয়ে যাচ্ছেন,” উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি আরও জানান, তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার তাঁর প্রত্যর্পণ চেয়েছে।

ফিনিশ প্রেসিডেন্ট স্টাব অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির দিকনির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি আসিয়ান-এ যোগদানের জন্যও সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

“আমরা চাই বাংলাদেশ সার্ক ও আসিয়ানের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হোক। আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আমাদের আবেদন পূর্ণ সদস্যপদের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ,” ব্যাখ্যা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট স্টাব জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করে তোলার তাগিদ দেন। তিনি বলেন, “বিশ্বব্যবস্থা পরিবর্তিত হচ্ছে। আমাদের জাতিসংঘকে শক্তিশালী করতে হবে।”

এ বিষয়ে একমত হয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, বড় বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘ এখন কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
“বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, অথচ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কার্যকর প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা জাতিসংঘ অনেকটাই হারিয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি।

এছাড়া, বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি শরণার্থীর জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

দুই নেতা আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে, নেপাল, ভুটান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া নিয়ে প্রফেসর ইউনূস বলেন, “এই উদ্যোগ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করবে।”

সাক্ষাৎকালে জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।