নিউইয়র্ক, ২৮ সেপ্টেম্বর: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন বিনিয়োগকারী এবং স্ন্যাপচ্যাটের সাবেক চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার (সিএসও) ইমরান খান শনিবার বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
৪৮ বছর বয়সী ইমরান অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান পড়াশোনার জন্য। পরবর্তীতে প্রযুক্তি খাতে বিশেষায়িত বিনিয়োগ ব্যাংকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। আলিবাবার রেকর্ড ভাঙা আইপিওতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং স্ন্যাপচ্যাটের বাজারমূল্য দ্রুত কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে তুলতে প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশে দ্রুত বিকাশমান ফিনটেক, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক ব্যবসা খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
ইমরান খান অধ্যাপক ইউনূসের দারিদ্র্য বিমোচনে আজীবনের প্রচেষ্টার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “আমি আপনার কাজের ভক্ত। আপনি আমাদের সবার জাতীয় গর্ব।” তিনি জানান, ইউনূসের কাজ থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিজ দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ বেড়েছে।
বর্তমানে আলেফ হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান ও ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ‘প্রোইম অ্যাসেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইমরান বলেন, গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করছেন।
তার ভাষায়, “সময় এখন অনুকূল; নীতিমালা অনেক বেশি সহায়ক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ একটি ফ্রন্টিয়ার মার্কেট, যেখানে ফিনটেক খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি।”
অধ্যাপক ইউনূস শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। ইমরানও দেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আপনার মতো রোল মডেল দরকার। এখন দেশে উত্তেজনাপূর্ণ সময়—আপনি নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করতে পারেন।”
সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস শীর্ষ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের অন্তত এক শতাংশ বিনিয়োগ সামাজিক ব্যবসায় বা যৌথ সামাজিক ব্যবসা তহবিলে দেওয়ার প্রস্তাব করেন। ইমরান খান এ প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদও উপস্থিত ছিলেন।





