বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইউট্যাবের সংবাদ সম্মেলন: শিক্ষক মর্যাদা ও বৈষম্য দূর করার দাবি

শিক্ষক সমাজের মর্যাদা পুনরুদ্ধার ও বেতন কাঠামো সংস্কারে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি ইউট্যাবের

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৫, ঢাকা

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।
‘শিক্ষকতা পেশা : মিলিত প্রচেষ্টার দীপ্তি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক সমাজের মর্যাদা, আর্থিক সংকট, পদোন্নতি বৈষম্য ও গবেষণা তহবিল ঘাটতি বিষয়ে নানা দাবি তুলে ধরেন ইউট্যাব নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে ইউট্যাবের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন,

“বাংলাদেশের প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল স্তরের শিক্ষক এখন পেশাগত ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য মর্যাদা রক্ষায় সরকারের নীতি সংশোধন ও বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি।”

তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন সর্বনিম্ন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি শিক্ষকদের তুলনায় চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সময়মতো অবসর সুবিধা ও ভাতা না পাওয়ায় অনেক শিক্ষক অবসরের পর আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভোগেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের বেসরকারি কলেজের শিক্ষকরা এখনও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ইউট্যাব এটিকে “চরম বৈষম্যমূলক নীতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষকরাও গবেষণা তহবিল, পদোন্নতি জটিলতা ও প্রশিক্ষণের অভাবে সমস্যায় আছেন বলে সংগঠনটি জানায়।

অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন,

“উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের জন্য স্বাধীন, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রণোদনামূলক পরিবেশ সৃষ্টি না হলে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়।”


🔹 ইউট্যাবের ১২ দফা দাবি

১️⃣ সকল স্তরের শিক্ষকদের জন্য সুষম ও মর্যাদাসম্পন্ন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন।
২️⃣ স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী পদোন্নতি প্রক্রিয়া চালু।
৩️⃣ আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি।
৪️⃣ প্রশাসনিক কাজের চাপ কমিয়ে শিক্ষাদানে মনোনিবেশের পরিবেশ সৃষ্টি।
৫️⃣ বেসরকারি শিক্ষকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম ও সময়মতো অবসর ভাতা প্রদান।
৬️⃣ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতন স্কেল।
৭️⃣ আন্তর্জাতিক মানে গবেষণা ভাতা ও তহবিল বৃদ্ধি।
৮️⃣ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় কনফারেন্সে অংশগ্রহণে আর্থিক প্রণোদনা।
৯️⃣ গবেষণা প্রকাশনা ও গ্রন্থ প্রকাশে বিশেষ প্রণোদনা।
🔟 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির নিশ্চয়তা ও গবেষণা সুযোগ বৃদ্ধি।
১১️⃣ শিক্ষা ও গবেষণা-বান্ধব মুক্তবুদ্ধি চর্চার পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
১২️⃣ শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ।


অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম আরও বলেন,

“শিক্ষকরা জাতি গঠনের মূল কারিগর। কিন্তু পেশাগত অবমূল্যায়নের কারণে তারা আজ হতাশ। ন্যায্য মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল কালাম সরকার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক লুৎফর রহমান, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. সোহাগ আউয়ালসহ ইউট্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।