“বিমানবন্দর আগুন: ক্ষতিপূরণ কত এবং কে দেবে?”

“বিমানবন্দরে আগুনে ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি, ক্ষতিপূরণ এখনো অনিশ্চিত”

ছবি সংগৃহীত

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ অক্টোবর, রবিবার | নিউজ চ্যানেল বিডি

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আগুনে বিপুল পরিমাণ ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল, তৈরি পোশাক ও ইলেকট্রনিক পণ্য পুড়ে গেছে। তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইএবি) জানিয়েছে, আগুনের ঘটনায় বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ওষুধ শিল্পে বড় ক্ষতি
বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩২টি কোম্পানি ক্ষতির তথ্য দিয়েছে; পূর্ণাঙ্গ হিসাব এলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ক্ষতিপূরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ছোট-বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও কে বা কীভাবে ক্ষতিপূরণ দেবে তা এখনও নিশ্চিত নয়। অস্থায়ীভাবে নতুন পণ্য রাখার জন্য ৯ নম্বর গেটে শেড তৈরি করা হয়েছে। কাস্টমস জানিয়েছে, এখন থেকে ‘যেদিন মাল আসবে সেদিনই খালাস’ নীতিতে কাজ চলবে। তবে সিএন্ডএফ এজেন্টরা বলছেন, এই ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং বৃষ্টির সময় নতুন পণ্যেরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

তদন্ত কমিটি ও সরকারি পদক্ষেপ
আগুনের কারণ অনুসন্ধানে স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সাত সদস্যের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর ক্ষতির বিস্তারিত জানা যাবে।

বিজিএমইএ ও ইএবি’র উদ্বেগ
বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইনামুল হক জানিয়েছেন, রপ্তানি খাতের অন্তত ১০০ কোটি ডলারের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইএবি সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, ক্ষতি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তিনি দ্রুত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা এবং বিমা-সুবিধাবিহীন ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন।

আমদানিকারকদের অভিমত
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান স্কাই বাই বিডি’র কর্ণধার রাসেল বিন আহাদ জানিয়েছেন, ছয় টন ব্যাগ, জুতা ও জুয়েলারি পুড়ে গেছে। প্রদীপ চন্দ্র কর্মকার জানান, তাঁর ২২ টন কসমেটিকস ও ইলেকট্রনিক পণ্যও সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

ভবিষ্যৎ প্রভাব
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, আগুনের ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। ইএবি’র সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিদেশি ক্রেতাদের শঙ্কা বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার ও আন্তর্জাতিক চুক্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া ওষুধ শিল্পেও কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে।