অনলাইনভিত্তিক সিসা কারবারে ডিএনসির ছদ্মবেশী অভিযান: আইটি ব্যবসার আড়ালে মাদক নেটওয়ার্ক, মূলহোতাসহ গ্রেপ্তার ২

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) রাজধানীতে অনলাইনভিত্তিক সিসা সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা…

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) রাজধানীতে অনলাইনভিত্তিক সিসা সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে চক্রের মূলহোতা ও তার ডেলিভারি বয়কে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযানে ১৮ কেজি সিসা, হুক্কা সেট, চারকোল, মোবাইল ফোন, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসির গোয়েন্দা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে মাদক বেচাকেনার ওপর নজরদারি করে আসছে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি চক্র ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দেশব্যাপী সিসা সরবরাহ করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ বদরুদ্দীনের তত্ত্বাবধানে এবং উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ১৬ নভেম্বর রাতের এই অভিযান পরিচালিত হয়।
হাতিরঝিলে ছদ্মবেশী অভিযান: ডেলিভারি বয়ের ব্যাগে ২ কেজি সিসা
ছদ্মবেশী ক্রেতা সেজে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চক্রের ডেলিভারি বয় মো. আশিকুর রহমান সামি (১৯)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হাতিরঝিল এলাকায় সামি উপস্থিত হলে তাকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার স্কুলব্যাগ থেকে ২ কেজি AL FAKHER সিসা পাওয়া যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে সামি জানান, সে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন অর্ডার অনুযায়ী সিসা সরবরাহ করত, তবে এটির পেছনে আরও কয়েকজন কাজ করছে। চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক হিসেবে সে মো. আব্দুল আলিম ওয়াসিফ (২৮)-এর নাম প্রকাশ করে।
উত্তর বাড্ডায় অভিযান: দোকান থেকে ১৬ কেজি সিসা উদ্ধার
সামির দেওয়া তথ্য যাচাই করে উত্তর বাড্ডার বিটিআই প্রিমিয়াম প্লাজার “ইনোভেট” দোকান চিহ্নিত করা হয়। রাতে দোকানে প্রবেশ করে সন্দেহজনক কার্যকলাপ নিশ্চিত হলে মালিক আব্দুল আলিম ওয়াসিফকে আটক করা হয়।


স্টোর রুম তল্লাশিতে উদ্ধার করা হয়—
১৬ কেজি AL FAKHER সিসা
৩টি হুক্কা সেট ও ২টি পাইপ
১০ প্যাকেট চারকোল
একটি আইফোন–১৩
৫টি ওয়াইফাই সিসিটিভি ক্যামেরা
জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াসিফ স্বীকার করেন যে তিনি অনলাইনে অর্ডার নিয়ে রাজধানীতে গোপনে সিসা সরবরাহ করতেন এবং সামি তার হয়ে ডেলিভারি দিত।
গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্তে ডিএনসি আরও অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
উদীয়মান ঝুঁকি: অনলাইনভিত্তিক সিসা কারবার
সিসা বারের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ায় চক্রগুলো অনলাইন–ডেলিভারি পদ্ধতিতে ঝুঁকছে
সোশ্যাল মিডিয়া, মোবাইল নম্বর, আইপি অ্যাড্রেস—সবকিছু বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে
রাজধানীতে ডিজিটাল নজরদারি ও মাঠ–গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হবে