পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

দোকানে ঢুকে টার্গেট করে গুলি, একজন আটক—সিসিটিভি ফুটেজে শ্যুটারদের স্পষ্ট গতিবিধি

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা ও পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া (৪৭)–কে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় মিরপুর ১২ নম্বর ‘সি’ ব্লকের বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে ঢুকে তাকে গুলি করে পালিয়ে যায় তারা।
পুলিশ জানায়, সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা দোকানের ভেতরে ঢুকে কিবরিয়ার মাথা, বুক ও পিঠ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সিসিটিভি ফুটেজে টার্গেটেড কিলিংয়ের দৃশ্য
ফুটেজে দেখা যায়, কিবরিয়া দোকানে ঢোকার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তিনজন দুর্বৃত্ত দোকানে প্রবেশ করে। দুজনের গায়ে শার্ট, একজনের পাঞ্জাবি—সবার মাথায় হেলমেট ও মুখে মুখোশ। দোকানে তখন ৯ জন থাকলেও গুলি শুরু হতেই সবাই ছুটে বেরিয়ে যায়।
দেখা যায়—দুজন কিবরিয়াকে গুলি করছে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাদের একজন আরও তিনটি গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে যায়। পুরো ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে।
পরিবারের শোক ও ক্ষোভ
নিহত কিবরিয়ার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের ওলীপুর তালুকদার বাড়ি। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। দুই ভাই ইউরোপে থাকেন। তার দুই কন্যাসন্তান। পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা গেছে, আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ মিরপুরে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।
খালাতো ভাই মো. পারভেজ বলেন, “আমার ভাই খুব ভালো মানুষ ছিল। বিএনপি করার কারণেই তাকে বহুবার হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মতলব উত্তর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল হাসান বেনু বলেন, “গোলাম কিবরিয়া সৎ ও নিরহংকার মানুষ ছিলেন। প্রকাশ্যে তাকে হত্যা করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে।”
পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য
মিরপুর বিভাগের ডিএমপি উপকমিশনার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, “কিবরিয়াকে গুলি করার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এখনো হত্যার কারণ জানা যায়নি।”
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক বলেন, “কিবরিয়া যুবদল নেতা ছিলেন এবং পাশাপাশি ব্যবসা করতেন। তার কোনো শত্রু ছিল না। তার গায়ে নয়টি গুলি লেগেছে। তিনি স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে মিরপুর সাড়ে ১১–তে বসবাস করতেন।”