সহিংসতা উসকে দেওয়া কনটেন্ট অপসারণ–ব্লক করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ

বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে সামাজিক অস্থিরতা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে সতর্ক করল জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA)

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি (NCSA) জানিয়েছে, দেশের বেশ কিছু ডিজিটাল ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মিথ্যা ও উত্তেজনাকর বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সাম্প্রতিক সপ্তাহে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করেছে। এসব বক্তব্যের মাধ্যমে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এনসিএসএ জানায়, অনলাইনে প্রচারিত এসব বক্তব্য দেশে সহিংসতা সৃষ্টি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে নির্দেশনার ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য সামাজিক স্থিতিশীলতা (সোশ্যাল হারমনি) বিঘ্নিত করছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ
সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী—
ধারা ২৬: সাইবার স্পেসে ধর্মীয়, সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিদ্বেষমূলক ও সহিংসতা উসকে দেওয়া বক্তব্য প্রচার একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড, বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, বা উভয় দণ্ড।
এছাড়া,
অধ্যাদেশের ধারা ৪ অনুযায়ী, দেশের নাগরিক বিদেশে থেকেও এই ধরনের অপরাধ করলে আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
ধারা ৮(২) অনুসারে, দেশের নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার ক্ষতি হতে পারে এমন কনটেন্ট প্রচারিত হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তথ্য–উপাত্ত অপসারণ বা ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারে।
কনটেন্ট অপসারণ ও ব্লকের নির্দেশনা
এনসিএসএ জানিয়েছে, সহিংসতা উসকে দেওয়া বা বিশৃঙ্খলার নির্দেশনা সম্বলিত কনটেন্ট, মিডিয়া আউটলেট বা সোশ্যাল মিডিয়া পেজের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
প্রয়োজনে—
মহাপরিচালকের মাধ্যমে সরাসরি অপসারণ বা ব্লক, অথবা
বিটিআরসিকে অবহিত করে টেকডাউন কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করা হবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, পেজ এবং ব্যক্তিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।