স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
২০১৩ সালের রাজনৈতিক সহিংসতা ও দমন–পীড়ন বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ অধ্যায়—এমন মন্তব্য করেছেন তৎকালীন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সাংবাদিক এবং বর্তমানে প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী জনাব শফিকুল আলম।
এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, “মাওলানা সাঈদীর বিচারের রায়ের পর যে কিলিং হয়েছে, তা ছিল এক ভয়াবহ দিনের সূচনা। ওইদিন স্পষ্ট অর্ডার ছিল—যারা বের হবে, তাদের গুলি করা হবে। আমি নিজে দুইদিন ধরে লাশ গুনেছি।”
তিনি জানান, আন্তর্জাতিকভাবে ভিড় নিয়ন্ত্রণের যে নীতি প্রচলিত—লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট—তার কোনওটাই অনুসরণ করা হয়নি। “সেদিন সরাসরি রাইফেলের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এটি ছিল নর্মস–বহির্ভূত এক নির্মম সিদ্ধান্ত,” বলেন তিনি।
গুম ও নিখোঁজের ঘটনা তুলে ধরে শফিকুল আলম বলেন—
“২০১৩ সালে গুমের ঘটনা ভয়াবহভাবে বেড়ে যায়। একদিনে ১৮ জন ছেলেমেয়ে—যাদের বেশিরভাগ বিএনপি–সমর্থক—নিখোঁজ হয়ে যায়। অথচ একটি-দুটি পত্রিকা ছাড়া কোথাও বড় খবর হয়নি। নীরবতার মধ্যে মানুষ উধাও হয়ে যাচ্ছিল।”
তিনি যোগ করেন, সেই সময় এপির নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি মৃত্যুর জন্য পুলিশের নিশ্চিতকরণ দরকার হতো। “দুইদিন ধরে আমি শুধু লাশ গুনেছি। পুলিশের নিশ্চিতকরণ পাওয়া ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা।”
২০১৩–১৪ নির্বাচনের প্রাক্কালে দমন–পীড়ন
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, “আমি নভেম্বরেই জেনে যাই আমি ভোট দিতে পারব না। ১৫৩টি আসনে আগেই ফল ইয়েসিল হয়ে গিয়েছিল।”
তিনি বলেন, হেফাজতের ওপর ৫–৬ মে’র ক্র্যাকডাউন এবং পরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছিল যে নির্বাচনটি শেষ পর্যন্ত “একটি ফার্স” হয়ে দাঁড়ায়।
এ নিয়ে তিনি বলেন, “এইচটি ইমাম পুরো নির্বাচন–প্রক্রিয়াকে এমনভাবে পরিচালিত করলেন যে এটি ছিল একতরফা, প্রশ্নবিদ্ধ একটি নির্বাচন।”





