অটোরিকশা ছিনতাই করতে গলাকেটে হত্যা—হত্যার ছুরি, রশি ও অটোরিকশাসহ গ্রেফতার আসামিরা

রিকশা ছিনতাইয়ের ফাঁদে নির্মম হত্যা—দ্রুত তদন্তে চারজন আটক

স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
তুরাগ থানা পুলিশ মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যে এক চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস কিশোর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, গ্রেফতারকৃতরা হল—
১) মোঃ সামিদুল হক মনা (৪২)
২) মোঃ রবিউল ইসলাম রানা (২০)
৩) হজরত আলি (৪৫)
৪) মোঃ নয়ন মিয়া (৩০)
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো ছুরি, বিশেষ কায়দায় বানানো নাইলনের রশি এবং ভিকটিমের অটোরিকশা উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তুরাগের ১৭ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর ব্রিজের পূর্ব পাশে একটি ফাঁকা জমির ছনের ভেতর গলাকাটা অবস্থায় অজ্ঞাত কিশোরের মরদেহ পাওয়া যায়। স্থানীয়দের ফোনে (৯৯৯) খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে পাঠানো হয়।
পরে নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে জানা যায়, নিহত কিশোরের নাম মোঃ শান্ত (১৬)। ১৬ নভেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টায় রিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর সে আর বাসায় ফেরেনি। তার মা কাফরুল থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন। নিহতের মামা শহিদুল ইসলাম মরদেহ দেখে শনাক্ত করেন।


তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে। প্রথমে কাফরুল এলাকা থেকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সামিদুল হক মনাকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দেয় এবং সহযোগীদের পরিচয় জানায়।
তার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরবর্তীতে রবিউল ইসলাম রানা, হজরত আলি এবং নয়ন মিয়াকে গ্রেফতার করে।
হত্যার উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই
আটক হওয়া আসামিদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী—
তারা অটোরিকশা ছিনতাই করে বিক্রি করার পরিকল্পনায় শান্তকে ৭ নম্বর ব্রিজ এলাকায় ডাকে
কৌশলে ফাঁকা জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়
রানা নাইলনের রশি দিয়ে শান্তের গলা চেপে ধরে
এরপর সামিদুল ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে
পরে অটোরিকশা নিয়ে ভাষানটেক হয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে যায়
সেখানে হজরত আলি ও নয়নের সহায়তায় ৫০ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করে
আজ (১৯ নভেম্বর) নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। একই সাথে জঙ্গল থেকে হত্যার ছুরি ও রশিও উদ্ধার করা হয়েছে।
আইনগত ব্যবস্থা চলমান
ঘটনায় তুরাগ থানায় নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।