স্টাফ রিপোর্টার, তারিখ: ২৩ নভেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ইমাম–খতিবের সম্মিলিত জাতীয় সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে “ন্যায়পরায়ণতা” হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলমন্ত্র। তিনি উল্লেখ করেন, ইসলামের মৌলিক বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে সম্মান জানিয়ে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয়ে বিএনপি কাজ করবে।
তারেক রহমান বলেন, “তাওহীদ-রিসালাত-আখিরাত—এই তিন বিষয়ে অবিচল বিশ্বাস ছাড়া একজন মানুষ প্রকৃত মুসলমান হতে পারে না। কালেমা-নামাজ-রোজা-হজ-জাকাত—এই পাঁচ মৌলনীতি মুসলিম উম্মাহর মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।” তবে ধর্মীয় ইস্যুকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করলে সমাজে ফিতনা সৃষ্টি হয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তিনি আরও জানান, ইসলামী বিধান নিয়ে ভিন্নমত বা মতবিরোধ যাতে সমাজে বিভক্তি সৃষ্টি না করে, সে ক্ষেত্রে ওলামা-মাশায়েখ ও ইমাম-খতিবদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইমাম–মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল ও সম্মানী ভাতার ঘোষণা
সম্মেলনে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সার্ভিস রুল প্রণয়নের দাবি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। বিএনপি ক্ষমতায় এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সার্ভিস রুল প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতা চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি জানান, “ইমাম–মুয়াজ্জিন কল্যাণ ট্রাস্ট” আরও শক্তিশালী করে বহুমুখী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমেও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন পরিকল্পনা
তারেক রহমান জানান, কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ বিএনপি সরকারের আমলেই নেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ হাজার মাদ্রাসা এবং সাড়ে তিন লাখ মসজিদে প্রায় ১৭ লক্ষ ধর্মীয় কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন—তাদেরকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের বাইরে রেখে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাজ সংস্কারক হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভূমিকার প্রশংসা
ইমাম–খতিব–মুয়াজ্জিনদের সমাজ সংস্কারক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নৈতিক ও আত্মিক শুদ্ধির জন্য আপনারা যে অবদান রাখছেন, সেটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়।” সমাজে নৈতিকতা বৃদ্ধি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তাদের ভূমিকা শক্তিশালী করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ
বক্তব্যে তিনি অতীত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। বলেন, রমজানে ‘ইফতার মাহফিল নিষেধাজ্ঞা’ এবং শাপলা চত্বরে হেফাজতের ওপর অভিযানের মতো ঘটনাগুলো ছিল ইসলামী মূল্যবোধের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। তিনি দাবি করেন, বিএনপি এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সর্বদা সোচ্চার ছিল।
এছাড়া সংবিধান থেকে “সর্বশক্তিমান আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস”–এর বাক্য পরিবর্তন করা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ
তারেক রহমান বলেন, “দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমাদের ঐক্যের বিকল্প নেই। আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
তিনি মহানবীর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শ অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেন।
দোয়া প্রার্থনা
বক্তব্যের শেষে তিনি নিজের মাতা, দলের নেতা-কর্মী এবং দেশবাসীর জন্য দোয়া চান। একই সঙ্গে সম্মেলন আয়োজন করায় সম্মিলিত ইমাম–খতিব পরিষদকে ধন্যবাদ জানান।





