স্টাফ রিপোর্টার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
কমলাপুরে নিজ নির্বাচনী আসন ঢাকা–৮–এর সমাবেশে বক্তৃতা দিতে গিয়ে মির্জা আব্বাস জামাতে ইসলামের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত কখনোই উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে পারত না, অথচ আজ তারা এমনভাবে আওয়াজ তুলছে যে অন্যরা কথা বলার সুযোগই পাচ্ছে না।
তিনি বলেন, “এরা মওদুদীবাদ মতবাদে বিশ্বাসী। আমাদের নতুন প্রজন্মও জানে না মওদুদীবাদ কী—তথাকথিত মাওলানা আব্দুল আলা মওদুদীর রাসূল (সা.)–এর মর্যাদা নিয়ে আপত্তিকর মত ছিল। নাউজুবিল্লাহ। এখন মোহাম্মদ (সা.)–এর নাম নিলে কি ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ বলতে হবে না?”
জামায়াতের রাজনৈতিক প্রচারণাকে আক্রমণ করে তিনি বলেন—
“এরা এখন জান্নাতের টিকিট বিক্রি করছে! কেউ বলে সূর্য থেমে যাবে, কেউ বলে জামায়াতকে ভোট দিলে নতুন করে মুসলমান হবেন। তার মানে কি আমরা মুসলমান না? ওদের ভাষ্যমতে আমরা কেউ মুসলমানই নই! আবার হুমকি দেয়—তাদের ভোট না দিলে জাহান্নাম, তারা হারলে নাকি কোরআন হেরে যাবে। নাউজুবিল্লাহ।”
তিনি কোরআনের মর্যাদা স্মরণ করিয়ে বলেন, “১৪০০ বছর ধরে কেউ কোরআন ধ্বংস করতে পারেনি। আল্লাহ নিজেই এটাকে রক্ষা করেন। এখন জামায়াত বলছে, তারা হেরে গেলে কোরআন হেরে যাবে—এটা ভয়ংকর এবং বেয়াদবির কথা।”
জামায়াতের ইসলামিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি—
“জামাতে ইসলামের নামে চললেই কি ইসলাম পাওয়া যায়? বৃষ্ণ কুমার নন্দী জামায়াতের সদস্য—এটা কীভাবে হয়? পশ্চিমাদের খুশি করতে তারা নিজেদের ফ্ল্যাগ থেকেও ‘আকিমুদ্দিন’ (দ্বীন কায়েম করো) শব্দটি তুলে দিয়েছে।”
ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাসূল (সা.)–কে খাটো করে, কোরআনকে রাজনীতির হাতিয়ার বানিয়ে কেউ ভোট চাইলে তা মেনে নেওয়া যায় না। আমি জেলে বসে কোরআন শিখেছি—কোরআন বিক্রি করে আমি ভোট খাব না।”
শেষে জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন—
“আমি কিছু বানিয়ে বলছি না। আপনারা বিচার করবেন। আসার সময়ও শুনেছি—এরা বলছে, ‘আমরা হারলে কোরআন চলে যাবে।’ ধর্মকে বিকৃত করে ভোট চাইছে—এরা কারা?”





