আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী: বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এনইআইআর নীতিমালা রিভিউ করা হবে

স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নীতিমালা পুনর্গঠনের আশ্বাস বিএনপি নেতার

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ২০২৫-১২-০৭, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর হোটেল সারিনায় সেন্টার ফর টেকনোলোজি জার্নালিজম (সিটিজে) আয়োজিত ‘এনইআইআর: বাস্তবায়ন কাঠামো, জাতীয় স্বার্থ এবং নাগরিক উদ্বেগ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে অবশ্যই এনইআইআর নীতিমালা রিভিউ করা হবে। তিনি বলেন, সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কথা বলে মুক্তবাজার অর্থনীতির পরিপন্থী নীতিগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন—যে পণ্য সবার প্রয়োজন, তার দাম বেশি হবে কেন? ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ৬৭ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের কার্যকারিতা নিয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন। স্থানীয়ভাবে মোবাইল অ্যাসেম্বেলিংয়ের সুযোগ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কতটুকু ভ্যালু-এড করছে, তারা প্রতিবছর বিনিয়োগের বিপরীতে ভ্যালু এডিশন বাড়াচ্ছে কিনা—এসব বিষয় পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতে কোনো নীতি করা হলে তা বাজারে মনোপলি সৃষ্টি করে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিকর।

গোলটেবিল বৈঠকের কী-নোট উপস্থাপন করেন সিটিজে সভাপতি ও দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক হাসান জাকির।

অন্যান্য অতিথির বক্তব্য

জহির উদ্দিন স্বপন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
যে কোনো নীতি গ্রহণের আগে তা রাষ্ট্র ও জনগণের লাভজনক কিনা তা বিবেচনা করতে হবে। এনইআইআর বাস্তবায়নে তড়িঘড়ি করার পেছনে অজ্ঞতা অথবা বিশেষ মহলের স্বার্থ কাজ করছে বলে মনে করেন তিনি। জনগণের স্বার্থ ছাড়া কোনো নীতি গ্রহণ করা উচিত নয় এবং নির্বাচিত সরকার ছাড়া এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফয়সল আলিম, সেক্রেটারি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্টাক্ট সেন্টার (বাক্কো)
এনইআইআর প্রয়োজন হলেও ৯টি প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার যে অস্বচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় অ্যাসেম্বেলিংয়ের নামে বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ এনে শুধু প্যাকেজিং করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জোনায়েদ সাকি, প্রধান সমন্বয়কারী, গণসংহতি আন্দোলন
যেকোনো নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় স্টেকহোল্ডার ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি যুক্তিযুক্ত হয় না। দেশে যেখানে কর্মসংস্থান সংকট, সেখানে এনইআইআর নীতিমালা লোকাল উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা না করে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি স্বৈরাচারী আচরণের সঙ্গে তুলনা করেন।

আমিনুল হাকিম, সভাপতি, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)
বর্তমান সরকার একতরফা নীতিমালা করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিদেশি বিনিয়োগকে সুবিধা দিতে গিয়ে স্থানীয় ব্যবসা ধ্বংস করা হচ্ছে। স্মার্টফোন পেনিট্রেশন না হলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বৃদ্ধি পাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অবস্থায় এনইআইআর নীতিমালা বাস্তবায়ন সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

রাফায়েল কবীর, সাবেক চেয়ারম্যান, সহায়ক কমিটি, বেসিস
এনইআইআর নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য যে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা অনির্বাচিত সরকার তড়িঘড়ি করে বাস্তবায়ন করার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না। সরকারের পক্ষ থেকে জুয়া বা নীতিবর্জিত কনটেন্ট বন্ধ করার যুক্তি তুলে ধরা হলেও এর সঙ্গে এনইআইআর-এর সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় মোবাইল অ্যাসেম্বেলিং প্রতিষ্ঠানের ভ্যালু এডিশন নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

মো: সায়েম ফারুকী, সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ
তিনি বলেন, হাতে সময় আছে আর মাত্র কয়েকদিন। এত অল্প সময়ের মধ্যে ৭/৮ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর রেজিস্ট্রেশন করা অসম্ভব। এনইআইআর বাস্তবায়ন করতে হলে সময় দিতে হবে। গণমাধ্যমে দীর্ঘ সময় প্রচার প্রচারণা করে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার পর সিদ্ধান্তে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আব্বাস উদ্দিন নয়ন, প্রধান প্রতিবেদক, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড
তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দামি ফোন বিক্রির দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম ১০টির মধ্যে রয়েছে এবং সবচেয়ে বেশি ট্যাক্সদাতা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে আছে বাংলাদেশ। পুলিশ চাইলে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কাউকে গ্রেফতার করতে পারে, এ জন্য আলাদা করে এনইআইআর বা আইএমই নাম্বারের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। উন্নত দেশগুলোতে এনইআইআর রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই স্থানীয় রেগুলেটররা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মহিউদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন
সরকার বলছে ট্যাক্স ও সিকিউরিটির জন্য এনইআইআর বাস্তবায়ন করা জরুরি। কিন্তু এগুলো কি বিটিআরসির কাজ—এ প্রশ্ন তোলেন তিনি। ট্যাক্স ও জননিরাপত্তার জন্য সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের রাজস্ব বিভাগ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থাকলেও তারা এনইআইআর নিয়ে কোনও আগ্রহ দেখাচ্ছে না, অথচ বিটিআরসির অতিরিক্ত আগ্রহের পেছনে প্রশ্ন থেকেই যায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, সভাপতি, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মোবাইল ব্যবসায়ী সমিতি
এনইআইআর বাস্তবায়ন করতে হলে আগে অবশ্যই ব্যবসায়ী ও স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বসতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নন, তবে এনইআইআর-এর সংস্কার চান। মুক্ত বাণিজ্যের সুযোগ দিয়ে এনইআইআর-এর মাধ্যমে সকল ব্যবসায়ীকে সমানভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিতে হবে। ছোট-বড় সকল মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের শুল্ক পরিশোধ করে পণ্য আমদানির লাইসেন্স গ্রহণ, বিটিআরসি ভেন্ডর এনলিস্টমেন্ট সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশন ও ডি-রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করার দাবি জানান তিনি।

ট্যাগস: