পরাজিত শক্তি গুপ্ত হত্যার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

নির্বাচনের আগে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে আসিভ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, কিছুদিন আগে তাঁদের একজন সহযোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদীকে গুলি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

তিনি বলেন, “আজ আমরা তাঁর পক্ষ থেকেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছি। আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন। একই সঙ্গে এটাও চাই—আগামীতে যেন আর কোনো বিজয় দিবস আমাদের এমন সহযোদ্ধার কষ্ট নিয়ে পালন করতে না হয়।”

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য, দেশের ভেতরে প্যানিক ছড়ানোর জন্য এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভাজন সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এ ধরনের গুপ্ত হত্যা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের হুমকি আরও অনেককে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমরা জানি, এ ধরনের গুপ্ত হত্যা কারা করে। মাত্র দুই দিন আগে ছিল শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। আপনারা জানেন, পরাজিত হওয়ার আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীও ঠিক এভাবেই আমাদের মেধাহীন করার ষড়যন্ত্র করেছিল।”

তিনি আরও বলেন, “ঠিক একইভাবে পরাজিত হওয়ার পর ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ আমাদের নেতৃত্বহীন করার জন্য এমন নেক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে।”

তবে তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। “এই ঐক্যের মাধ্যমেই আমরা মনে করি বাংলাদেশের মুক্তি সম্ভব। সামনের দিনে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আমাদের ভয় দেখাতে পারবে না।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন। “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় তারা ‘ডেভিল হান্ট ফেজ টু’ শুরু করেছে। আমরা এটা আগেও দেখেছি—যে কোনো সরকারের সময়ই নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসী, মাফিয়া ও গ্যাংস্টারদের গ্রেপ্তার করে জেলে রেখে নির্বাচনের দিকে যাওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “কারণ তারা বাইরে থাকলে এ ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। তাই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান—যেসব সন্ত্রাসীর ক্রিমিনাল রেকর্ড আছে, যারা চিহ্নিত মাফিয়া ও গ্যাংস্টার, তাদের রেকর্ড দেখে দ্রুত জেলের ভেতরে পাঠানো হোক। তারপর নির্বাচনের দিকে যাওয়া হোক। তাহলেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।