একটি বড় দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে প্রশাসন: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

মনোনয়ন যাচাই–বাছাই অনলাইনে করার দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ইনসেন্টিভ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার | ৩ জানুয়ারি ২০২৫ | নিউজ চ্যানেল বিডি

যাচাই–বাছাই শেষে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, যাচাই–বাছাই একটি ছোট প্রক্রিয়া হলেও এতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় নষ্ট করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনলাইন যুগে এসেও শত বছর আগের পদ্ধতিতে উঠান বৈঠক করে কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে, যা পরিবর্তন হওয়া দরকার।

তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করা যেত। পুলিশ, কর বিভাগ কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে ডিজিটালভাবে তথ্য পাঠিয়ে সহজেই যাচাই প্রতিবেদন পাওয়া সম্ভব ছিল। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আগেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে আচরণবিধি বাস্তবায়ন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশাসনের একটি অংশ ইতোমধ্যে একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। তারা ধরে নিচ্ছে ওই দল ল্যান্ডস্লাইড বিজয় পাবে এবং সেই ধারণার ভিত্তিতেই দায়িত্ব পালন করছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শীতের মধ্যে পুলিশ সদস্যদের অনেক ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। অথচ সেই অনুপাতে বোনাস, ভাতা বা ইনসেন্টিভের ব্যবস্থা নেই। এ অবস্থায় তাদের কাছ থেকে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালনের প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বিশেষ ইনসেন্টিভ, বেনিফিট ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পালন করলে ভবিষ্যতে তারা যেন কোনো প্রতিহিংসার শিকার না হন—এই নিশ্চয়তাও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দিতে হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের আগমন, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের তৎপরতা এবং সাবেক সন্ত্রাসীদের পরিকল্পিতভাবে জামিনে মুক্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এসব বিষয় নির্বাচনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

তিনি আরও বলেন, চলমান যৌথ বাহিনীর ‘ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ আরও কার্যকর করতে হবে। ভোটার, প্রার্থী, মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব।