স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
নির্বাচনী সমঝোতার জোটে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। নিজেদের জন্য বরাদ্দ আসন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দলটি জানিয়েছে, সমঝোতা না হলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আলাদাভাবে সব দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী সাতটি দল নিয়ে জোট গঠন করে জামায়াতে ইসলামী। এরই মধ্যে জোটের ব্যানারে একাধিক জনসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জোটের সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে গত ডিসেম্বরে তরুণদের দল এনসিপি এতে যোগ দেয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ শরিকের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন দল যুক্ত হওয়ায় আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার পর জোটের লিয়াজোঁ কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। ইসলামী আন্দোলন জানিয়েছে, তাদের জন্য বরাদ্দ করা ৩৫টি আসনে তারা সন্তুষ্ট নয়। এরই মধ্যে দলটি ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
দলটির নেতারা জানান, সমঝোতা হলে বৃহত্তর জাতীয় ও দেশের স্বার্থে তারা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত। তবে কোনো ব্যাকডোর পরিকল্পনা বা গোপন সমঝোতার আশঙ্কা থাকলে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিকল্প ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আলোচনার মাধ্যমেই শিগগিরই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। কোনো শরিক দল এককভাবে নির্বাচন করলে তাতে জোটের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না বলেও তারা দাবি করেন।
বর্তমানে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই বা স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। স্ক্রুটিনি শেষ হলে আলোচনার গতি আরও বাড়বে এবং তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
বর্তমানে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোটে এনসিপি ও এবি পার্টিসহ মোট ১১টি দল রয়েছে। এতে আসন বণ্টন ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে জটিলতা আরও বেড়েছে বলেও দাবি করছেন জোটের একাধিক শরিক।





