স্টাফ রিপোর্টার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশে ধীরে ধীরে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, এই সময়ে স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে এবং মূলধারার গণমাধ্যমগুলো একপাক্ষিক প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।
একটি নির্বাচনী পথসভায় দেওয়া বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, টেলিভিশন খুললেই দেখা গেছে পদ্মা সেতুর স্প্যান, পিলার আর তথাকথিত উন্নয়ন জার্নালিজম। অথচ মানুষের অধিকার, গুম, খুন, নির্যাতনের বাস্তব চিত্র আড়াল করা হয়েছে। তিনি একে ‘স্প্যান জার্নালিজম’ ও ‘ডেভেলপমেন্ট প্রপাগান্ডা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জামায়াতকে টার্গেট করে পরিকল্পিত ডকুমেন্টারি, টকশো ও খবর প্রচার করেছে। শিবির সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার ঘটনাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রথম আলো, কালের কণ্ঠ, সময় টেলিভিশন ও বাংলাভিশনের, ৭১ টেলিভিশন নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই মিডিয়াগুলো একসময় তারেক রহমানকে সন্ত্রাসী হিসেবে উপস্থাপন করেছে, এখন আবার সুবিধামতো অবস্থান বদলাচ্ছে। তিনি একে মিডিয়ার চরম দ্বিচারিতা বলে আখ্যা দেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, মিডিয়া মালিকরা কোটি কোটি টাকা আয় করলেও মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয় না। অনেক সাংবাদিক মাসে দুই থেকে চার হাজার টাকায় কাজ করতে বাধ্য হন। অথচ তাদের দিয়েই প্রপাগান্ডা চালানো হয়।
তিনি বলেন, “আমরা মিডিয়া স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। ফ্যাক্টের ভিত্তিতে আমার বিরুদ্ধেও নিউজ হোক, তাতে আপত্তি নেই। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রপাগান্ডা সাংবাদিকতা জনগণ আর গ্রহণ করবে না।”
জনগণ এখন নিজেই মিডিয়া হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষ সত্য খবর ছড়িয়ে দিচ্ছে। দালাল মিডিয়ার ওপর আর নির্ভর করতে হবে না।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি স্থানীয় ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, তিনি টাকার বস্তা বা জোরজবরদস্তির রাজনীতি করবেন না। ভালোবাসা ও স্বেচ্ছাসেবী প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনে জয়ী হতে চান। প্রত্যেক সমর্থককে প্রতিদিন অন্তত ১০ জন ভোটারের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।





