স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
রাজনৈতিক সহবস্থানের জায়গা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতা নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর রাজনীতিতে অসহিষ্ণুতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, পুরোনো শত্রুতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতির দিকে আবার ফিরে যাওয়া হচ্ছে। আমরা কেউ কারও শত্রু নই। গণতন্ত্র মানে সহিষ্ণুতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা। সবাই যার যার মত প্রকাশ করবে, আর জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে নিরপেক্ষ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকবে না। মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় একপক্ষীয় আচরণ দেখা যাচ্ছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও পক্ষপাতিত্বের চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এখন পরিস্থিতি শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপির নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক আক্রমণ, হেনস্থা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় রাজনৈতিক পরিবেশ আরও নেতিবাচক হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, কেউ যদি মনে করে গায়ের জোরে বা দখলের মাধ্যমে নির্বাচন জেতা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর মানুষ এখন অনেক বেশি সচেতন। বিশেষ করে তরুণরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন ও দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন দেখতে চায়।
নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যারা এ ধরনের নেক্কারজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের দ্রুত থামাতে হবে। তা না হলে জনগণের মধ্যে তাদের গ্রহণযোগ্যতা আরও কমে যাবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন শুরু থেকেই প্রতিপক্ষ করে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও পোস্টার লাগানো হয়েছে। অথচ এনসিপি কোনো পোস্টার বা রঙিন পোস্টার ব্যবহার করেনি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের ওপর সরাসরি হামলার পাশাপাশি ভয়ভীতি দেখিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। কয়েক দিন আগে দলের একটি অফিসের পাশে গুলি চালানোর ঘটনাও ঘটেছে, যা পরোক্ষভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার চেষ্টা।
তিনি বলেন, এখনো প্রত্যক্ষ বাধা আসেনি। তবে যদি তা আসে এবং প্রশাসন নীরব থাকে, তাহলে দল বাধ্য হয়ে প্রতিরোধমূলক অবস্থান নেবে। আমরা সংঘাত চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি আমাদের সে পথে ঠেলে দিলে দায় অন্যদেরই নিতে হবে।





