স্টাফ রিপোর্টার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
জান্নাতের টিকিট সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য জামায়াতে ইসলামীর দলীয় অবস্থান নয় বলে স্পষ্ট করেছেন দলটির নেতা জুবায়ের। তিনি বলেন, কেউ ব্যক্তিগতভাবে এমন কথা বলে থাকলে সেটি তার নিজস্ব বক্তব্য, দলের নয়।
এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমরা এ ধরনের কথা বলিনি। কেউ বিচ্ছিন্নভাবে বলে থাকলে সেটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য। এটি আমার দলের বক্তব্য নয়।”
তিনি বলেন, দেশে একটি বড় দলের শীর্ষ নেতা এসে কোরআন-সুন্নাহ ও মদিনা সনদ অনুযায়ী দেশ পরিচালনার কথা বলেছেন। অথচ যাদের আদর্শ সেক্যুলার, তারা সাধারণ সময়ে এসব কথা বলেন না। নির্বাচন এলেই হাতে তসবি, মাথায় হিজাবের রাজনীতি শুরু হয়, যা আগেও দেখা গেছে এবং এখনও দেখা যাচ্ছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে জুবায়ের বলেন, তিনি ইসলামী রাজনীতি করেন বলেই ইসলামের কথা বলেন। যেমন কমিউনিস্ট পার্টি বা জাসদ তাদের নিজ নিজ আদর্শের কথা বলে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ইসলামী মূল্যবোধ তার আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা, এটাকে তিনি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন না এবং কাউকে এতে বাধ্যও করেন না।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ ধরনের বক্তব্যের ক্ষেত্রে দলীয় অবস্থান দ্রুত ও স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, এসব বক্তব্য দলের নয়।
এ প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এসব বিষয় নিয়ে ট্রল তৈরি করা হচ্ছে এবং দলকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে। তার মতে, রাজনৈতিক দল হিসেবে আদর্শিক অবস্থান থাকবে, কর্মসূচি ও নীতির কথা বলা হবে, তবে তা হতে হবে বিচক্ষণতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে।
জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদী রাজনীতি শিক্ষা দিয়েছে যে ট্যাগ লাগিয়ে বা বিভাজন তৈরি করে শেষ পর্যন্ত দেশের কোনো ভালো হয় না। তিনি বলেন, “আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ চাই, যেখানে ফ্যাসিবাদ, একতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা স্বৈরশাসন আর ফিরে আসবে না।”
তিনি জানান, উপস্থিতির সংখ্যা কম হলেও এখানে দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন, যা জনগণের একটি সচেতন অংশের প্রতিনিধিত্ব করে।
রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর জোর দিয়ে জুবায়ের বলেন, “আমার দলকেই জিততে হবে—এই মানসিকতা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে, সেটাকে মেনে নেওয়ার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।”
তিনি বলেন, এখনো জাতীয় রাজনীতিতে এমন কোনো সীমালঙ্ঘন হয়নি যা দেশবাসীর জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে রাজনৈতিক বক্তব্য ও আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত নেতা জুবায়ের।





