নির্বাচন ও আইন-শৃঙ্খলায় ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার ব্যয়

ভোট পরিচালনার তুলনায় নিরাপত্তা খাতে বেশি বরাদ্দ, প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা



স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা: আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পরিচালনা ও আইন-শৃঙ্খলা খাতে মোট ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, আর আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
সরকারি সূত্র জানায়, নির্বাচন পরিচালনার ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা, প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তাদের সম্মানী, ব্যালট ও অন্যান্য উপকরণ, পরিবহন, প্রশিক্ষণ এবং প্রশাসনিক ব্যয়। নির্বাচনের পরিধি বড় হওয়ায় এসব খাতে ব্যয় তুলনামূলকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দ নির্বাচন ব্যয়ের চেয়েও বেশি হওয়ায় বিষয়টি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। এই অর্থ দিয়ে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন, মোতায়েন, যানবাহন, জ্বালানি, লজিস্টিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হবে।


কেন আইন-শৃঙ্খলা খাতে বেশি ব্যয়


বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা, সহিংসতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। সে কারণেই ভোটের দিন এবং তার আগের ও পরের সময়টাতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা খাতে বেশি ব্যয় দেখাচ্ছে যে নির্বাচনকে সরকার শুধু প্রশাসনিক নয়, নিরাপত্তার দিক থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।”


অর্থনৈতিক চাপ ও সমালোচনা


তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই ব্যয় নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের চাপ এবং উন্নয়ন ব্যয় সংকোচনের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনকালীন এ ধরনের বড় অঙ্কের ব্যয় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সমালোচকদের মতে, নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানো গেলে ব্যয় কমানো সম্ভব হতো। একই সঙ্গে তারা আইন-শৃঙ্খলা খাতে বরাদ্দের কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন।
সরকারের অবস্থান
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরাপদ নির্বাচন আয়োজনই এই ব্যয়ের মূল উদ্দেশ্য। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধ করাই অগ্রাধিকার।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, “নির্বাচন নিয়ে জনআস্থা ফেরাতে হলে নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রাখা যাবে না।”