স্টাফ রিপোর্টার, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছে ১১ দলীয় জোট। বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ থাকার কথা ছিল। জুলাই বিপ্লবের পর রাজনৈতিক সংস্কৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, শেরপুরের ঘটনাটি সেই পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
জোটের দাবি অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী স্টেডিয়ামে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার উদ্যোগে প্রার্থীদের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। যথাসময়ে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। পরে বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও তার সমর্থকেরা সেখানে এসে আসনবিন্যাস নিয়ে আপত্তি তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জামায়াত প্রার্থী কর্মীদের আসন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বিএনপির উশৃঙ্খল নেতাকর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি ও উস্কানি দিতে থাকে। এ সময় পুলিশ প্রশাসন কার্যকর ভূমিকা না রেখে নিষ্ক্রিয় দর্শকের মতো আচরণ করে।
পরবর্তীতে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্টেডিয়াম ছেড়ে ঝিনাইগাতী বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার প্রস্তুতি নেয় বলে অভিযোগ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্টের কথাও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সন্ধ্যার দিকে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল নেতাকর্মীদের নিয়ে স্টেডিয়াম ত্যাগের চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় শ্রীবর্দী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হামলার শিকার হন। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সংঘর্ষে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের অন্তত অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন শেরপুর হাসপাতালে এবং তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে এবং এ সময় একজন সেনাসদস্য আহত হন। সেনাবাহিনীর ভূমিকার জন্য ধন্যবাদ জানালেও পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মন্তব্য করা হয়।
১১ দলীয় জোট অবিলম্বে রেজাউল করিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। একই সঙ্গে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা তদন্ত করে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, সারাদেশে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের একপাক্ষিক ভূমিকার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
বক্তব্যের শেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি নিরপেক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়, যাতে একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যায়।





