স্টাফ রিপোর্টার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের তিন দফা দাবির প্রতিবাদে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা তেজগাঁও সাতরাস্তার কাছে ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছেন। কর্মসূচি থেকে তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের প্রবেশের সুযোগ কিংবা কোটা সংরক্ষণের কোনো অপকৌশল তারা মেনে নেবেন না।
বক্তারা বলেন, সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ এবং ১০ম গ্রেড পদমর্যাদা নির্ধারিত হয়েছে। এটি একটি মীমাংসিত বিষয়। জাতীয় প্রয়োজনে ১৯৭৮ সালে সরকারিভাবে শুধুমাত্র ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য এই পদ সৃষ্টি করা হয়। সংশ্লিষ্ট পদের কর্মধারা অনুযায়ী বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের এ পদে প্রবেশের দাবি অযৌক্তিক বলে তারা মন্তব্য করেন।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার নেতারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের বিপুল বিনিয়োগে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করা হয়। সেই উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের প্রকৌশল পেশার নিম্নপদে প্রবেশের দাবি জাতীয় মেধার অপচয়। মেধার সঠিক ব্যবহারের স্বার্থে প্রকৌশল সেক্টরে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের পেশা পরিবর্তনের সুযোগ বন্ধ করার দাবি জানান তারা।
বক্তারা জানান, বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের পেশাগত সমাধানে সরকার গঠিত কমিটির পক্ষ থেকে ১০ম গ্রেডভুক্ত উপ-সহকারী প্রকৌশলী বা সমমানের পদে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিবাদেই এই ব্লকেড কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
কর্মসূচিতে বৈষম্যহীন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সুষ্ঠু প্রকৌশল কর্মপরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়। নেতৃবৃন্দ বলেন, সরকার যখন গণতন্ত্রের পথে দেশকে এগিয়ে নিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন পরিকল্পিতভাবে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে এবং বিভিন্ন সংস্থায় তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে।
তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মেট্রোরেল ও ওজোপাডিকোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রিটের মাধ্যমে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থায় মাথাভারী অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের মাধ্যমে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের পদ সংখ্যা সংকুচিত করা হচ্ছে, যা সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘনের শামিল বলে তারা দাবি করেন।





