স্টাফ রিপোর্টার, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
আসনের সামগ্রিক চিত্র
সদর ও কচুয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বাগেরহাট-২ আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ক্ষেত্র। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী না থাকায় সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। এই শূন্যতায় জামায়াত শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। পাশাপাশি বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিম স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় আসনটিতে ত্রিমুখী লড়াই স্পষ্ট।
প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনকে। জামায়াতের প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ। স্বতন্ত্র হিসেবে মাঠে রয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ এইচ সেলিম। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেখ আতিয়ার রহমানও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।
২০০১ সালে বিএনপির টিকিটে এম এ এইচ সেলিম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সে সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এখনো ভোটারদের একাংশের কাছে আলোচিত। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হওয়ায় বিএনপির ভোট বিভক্ত হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে ধারণা জোরালো।

মাঠের বাস্তব চিত্র
স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, শিক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে যে চিত্র উঠে এসেছে তা বেশ চমকপ্রদ। অনেকের মতে, জাতীয় পর্যায়ে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজোয়ারের কথা বলা হচ্ছে, বাগেরহাট-২ আসনে তার পূর্ণ প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।
২০ জনের বেশি ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই আসনে ধানের শীষের তুলনায় ঘোড়া মার্কা এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থীও শক্ত অবস্থানে আছেন। বিশেষ করে জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ভোট তার পক্ষে সংগঠিত হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের ভূমিকা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী ভোটার সংখ্যা সামান্য বেশি হলেও তারা কোনো একটি প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ নন। বরং আওয়ামী লীগ মতাদর্শে বিশ্বাসী ভোটারদের অবস্থানই ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
মাঠপর্যায়ে কথা বলা একাধিক পর্যবেক্ষকের মতে, আওয়ামী লীগপন্থী ভোটাররা যদি কৌশলগতভাবে কোনো একটি প্রার্থীকে সমর্থন দেন, তাহলে সেই ভোটই পুরো নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। বিএনপির ভোট বিভক্ত থাকায় এই ভোটব্যাংক কার্যত কিংমেকার হয়ে উঠেছে।
ভোটার পরিসংখ্যান
বাগেরহাট-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৫ জন।
সব মিলিয়ে মাঠের বাস্তবতা বলছে, প্রতীক, দল কিংবা জাতীয় আবহের চেয়ে স্থানীয় হিসাব-নিকাশ ও কৌশলগত ভোটই বাগেরহাট-২ আসনের ফল নির্ধারণ করবে।





