ঠাকুরগাঁওয়ে নির্বাচনী জনসভায় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার ও দেশ পুনর্গঠনের আহ্বান

১২ তারিখের নির্বাচন জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন: নেতৃবৃন্দ

১২ তারিখের নির্বাচন জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন: নেতৃবৃন্দ

স্টাফ রিপোর্টার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ঠাকুরগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় আগামী ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনকে জনগণের হারানো ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার পুনরুদ্ধারের নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জনসভায় বক্তারা বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের নয়, বরং দীর্ঘ এক যুগের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে দেশ পুনর্গঠনের সুযোগ।

বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৫ বছরে বহু পরিবার গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যারা ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন, তাদের ত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব।

জনসভায় নারীর ক্ষমতায়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি পরিবারের গৃহিণীর হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়ে বলা হয়, এর মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ, সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে সারা দেশে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করার অঙ্গীকার করা হয়। পাশাপাশি এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্র ঋণের বোঝা লাঘবে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

উত্তরাঞ্চলকে কৃষিনির্ভর শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর ও পঞ্চগড় এলাকায় কৃষিভিত্তিক শিল্প স্থাপন করে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে। বেকার তরুণদের জন্য কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও ঘোষণা করা হয়, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ পায়।

শেষে বক্তারা বলেন, এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণের সমর্থন ও ভোটের মাধ্যমেই দেশ পুনর্গঠনের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব। জনসভা থেকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।