অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা চলছে, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: তারেক রহমান

পল্লবীর রামিসা হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হবে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শনিবার দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর এলাকায় ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে যারা দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে, দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।”

তিনি সম্প্রতি পল্লবী এলাকায় শিশু রামিসা হত্যার ঘটনাকে “হৃদয়বিদারক” উল্লেখ করে বলেন, অপরাধীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে বিচার প্রক্রিয়া আইন ও নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, যান চলাচল ব্যাহত করা হচ্ছে, বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।”

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও এ ধরনের কয়েকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল এবং তখন তার দল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে যারা আন্দোলন করছে, তাদের তখন মাঠে দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই একটি মহল ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তিনি বলেন, “গত ৫ আগস্ট যাদের বাংলাদেশের মানুষ বিতাড়িত করেছিল, এখন যারা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে।”

দেশের জনগণ এখন উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে লাগাতে পারলে দেশ এগিয়ে যাবে।”

তিনি জনগণকে বিভ্রান্তি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এদেশের মালিক জনগণ। জনগণের ভাগ্য নিয়ে আর কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।”

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাহবুবুর রহমান লিটন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতারা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং একটি তালগাছের চারা রোপণ করেন।