আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ না হলে দেশের সংকট আরও গভীর হবে

পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে নতুন করে বড় সংকটের দিকে ঠেলে দেবে: নায়েবে আমির তাহের

স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

আগামী জাতীয় নির্বাচন যদি অবাধ, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে দেশের চলমান সংকটের অবসান হবে না; বরং নতুন করে আরও গভীর সংকট তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির তাহের।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে। গত এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে সরকার, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নতুন করে আশঙ্কার জন্ম দিয়েছে।

নায়েবে আমির তাহের অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সেনাবাহিনীসহ—এবং প্রশাসনের একটি অংশ যেভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ছে এবং প্রকাশ্যে আনুগত্য দেখাচ্ছে, তাতে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে যে আসন্ন নির্বাচন আবারও অতীতের মতো পাতানো নির্বাচনে পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ ধরনের পাতানো নির্বাচন বাংলাদেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে। নির্বাচন কমিশন, সরকার এবং নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন এখনই নিরপেক্ষ ভূমিকা গ্রহণ করেন এবং দেশকে রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

নায়েবে আমির তাহের জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, আগের নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে অংশগ্রহণমূলক না হওয়ায় এবার তারা নির্বাচন পর্যবেক্ষণে সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায়। একই সঙ্গে ইউরোপীয় প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে নায়েবে আমির তাহের বলেন, ভবিষ্যতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও সংশ্লিষ্ট সব বিদেশি স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখা হবে।

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সবচেয়ে বড় দাতা সংস্থা এবং তারা এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আশ্বাস দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে যে বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হবে।

সবশেষে তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন, জামায়াতে ইসলামী সে ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনী পরিবেশ গড়ে তুলতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।