স্টাফ রিপোর্টার, ১৩ মার্চ ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
মধ্যপ্রাচ্যে ও এর মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে রূপ নেয় এবং এতে সহ বড় শক্তিগুলো সরাসরি জড়িয়ে পড়ে, তাহলে এর প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বিশ্ব অর্থনীতিতে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তেলের বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক প্রভাব পড়ে তেল বাজারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়।
যদি যুদ্ধের কারণে এই পথ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে, তাহলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকটের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা
বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে তার প্রভাব পড়ে প্রায় সব খাতেই। বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় খরচ বেড়ে যায়। ফলে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং ডলার সংকটের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাড়ছে ঝুঁকি
যুদ্ধ দীর্ঘ হলে সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট।
এই এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়লে জাহাজ চলাচল কমে যেতে পারে। পাশাপাশি জাহাজের বীমা খরচ বেড়ে যাওয়া এবং পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে।
শেয়ারবাজারে অস্থিরতা
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ বাজার থেকে অর্থ সরিয়ে নেন। তখন তারা স্বর্ণ, ডলার বা নিরাপদ সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়ান।
এর ফলে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ওঠানামা দেখা যায়। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে যেতে পারে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতির প্রভাব আরও বেশি পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি, ডলারের ওপর চাপ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে বাজারে পণ্যের দাম বাড়তে পারে।
ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘ হলে তা শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।





