ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত তীব্র: ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা

ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য, ইসরাইল ও লেবাননেও বোমা বর্ষণ, বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি

স্টাফ রিপোর্টার, ০৮ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এমন উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোতে শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুমকি দিলেও নতি স্বীকার না করার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত আমেরিকার ‘জুফায়ার’ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। হামলার সাথে যুক্ত দাবি অনুযায়ী, এই ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের একটি পানি শোধন কেন্দ্রে (ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট) হামলা চালানো হয়েছিল।

ইসরাইলের জেরুজালেম ও কাতারের দোহায় বিমান হামলার সাইরেন ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনেও হামলা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৯টি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

ইরানের কট্টরপন্থী বিচার বিভাগীয় প্রধান গোলাম হোসেইন মোহসেনি এজেই বলেছেন, ‘ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কাছে প্রমাণ আছে যে, এই অঞ্চলের কিছু দেশের ভূখণ্ড প্রকাশ্য ও গোপনে শত্রুর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।’

সৌদি আরব জানিয়েছে, মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে এমন একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। জর্ডানও অভিযোগ করেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে ইরান তাদের দেশে ‘গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা’ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে সামরিক একাডেমি, ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টার ও ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার লক্ষ্য ছিল। তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আগুনের শিখা ও ধোঁয়া দেখা গেছে।

ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘আজ ইরানে খুব বড় হামলা করা হবে!’ এবং বলেন, ‘ইরানের খারাপ আচরণের কারণে যেসব এলাকা আগে লক্ষ্য ছিল না, সেগুলোও ধ্বংস করার পরিকল্পনা চলছে।’

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সাবেক আধাসামরিক জোট হাশদ আল-শাবি’র ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় একজন ইরাকি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। ইরানের ভেতরে অবকাঠামো ও আবাসিক ভবনের ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে, তেহরানের বাসিন্দারা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় এ পর্যন্ত ৯২৬ জন নিহত এবং প্রায় ৬ হাজার আহত হয়েছেন। লেবাননে গত এক সপ্তাহে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ২৯৪ জন নিহত হয়েছেন।

সংঘাতটি সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাব ফেলেছে। শেয়ার বাজারে ধস, অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামার কোনো স্পষ্ট পথ এখনও দেখা যাচ্ছে না।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী শনিবার দুটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরক ড্রোন হামলা চালিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যবস্থা অচল করার চেষ্টা করছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানিয়েছেন, খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ইরানি জনগণের ইচ্ছায়, কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ ছাড়াই। চীন ও রাশিয়া এখন পর্যন্ত সংঘাত থেকে দূরে থাকলেও, রাশিয়া কিছু গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে বলে খবর এসেছে।