স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ মার্চ ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শুক্রবার ঈদযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন (কমলাপুর) পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভিন্ন আন্তঃনগর সার্ভিসে অতিরিক্ত ১২৪টি মিটারগেজ ও ১৪টি ব্রডগেজ কোচ সংযোজন করেছে। এছাড়া নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুরু হওয়া ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এখন পর্যন্ত মোটামুটি স্বস্তিদায়ক। অনলাইনে টিকিট বিক্রিতে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ থাকলেও সবাই ন্যায্যভাবে টিকিট পেয়েছেন এবং রেলসহ অন্যান্য পরিবহনে যাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনলাইনে অগ্রিম টিকিট বিক্রির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৩ তারিখ থেকে ধারাবাহিকভাবে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কেনার চেষ্টা করলেও রেলের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রায় ৩৬ হাজার টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়েছে। টিকিট বুক করার পর পেমেন্টের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয় বলে অনেক সময় অন্যদের অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তিনি জানান, ঈদযাত্রার প্রথম দিনে ২১টি ট্রেন নির্ধারিত গন্তব্যে ছেড়ে গেছে এবং অধিকাংশ ট্রেনই সময়মতো চলেছে। দুটি ট্রেন প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। একটি দুর্ঘটনার কারণে ট্রেনগুলো কয়েকদিন ধরে প্রায় তিন ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি করছিল, যা কমিয়ে এখন ৪০ মিনিটে আনা সম্ভব হয়েছে।
স্টেশনে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে সন্তুষ্টির কথা শুনেছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তবে যাত্রীরা এই সেবার ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, বর্তমানে যাত্রীরা যে সেবার মান দেখছেন তা ধরে রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর এবং ভবিষ্যতে তা আরও উন্নত করা হবে।
রেলমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী রেল যোগাযোগকে যুগোপযোগী ও জনবান্ধব করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই লক্ষ্যেই সরকার রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে, যাতে মানুষ স্বল্প সময়ে স্বাচ্ছন্দ্যে দীর্ঘ দূরত্বে যাতায়াত করতে পারেন।
ঈদের সময় অনেক যাত্রী ট্রেনের ছাদে উঠে যাতায়াতের চেষ্টা করেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ প্রবণতা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে বিপুল যাত্রীর চাপে কখনো দুই-একজন ছাদে উঠতে পারেন। শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
ঈদযাত্রার বড় চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ থেকে দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়েন, যা বিশ্বের খুব কম শহরেই দেখা যায়। এত স্বল্প সময়ে এত মানুষের যাতায়াত বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলেও সরকার তা মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
মন্ত্রী জানান, ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে অন্তত ৮৫ থেকে ৮৭টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ প্রয়োজন। বর্তমানে ৭৮টি লোকোমোটিভ যুক্ত করা হয়েছে এবং আগামী দুই দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি যুক্ত হলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে রেলওয়ে পুলিশ ছাড়াও নিয়মিত পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌপুলিশ ও বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একযোগে কাজ করছে। পাশাপাশি আনসার সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ জ্যাকেট পরিহিত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ছয় লেনের কাজ চলমান থাকলেও অন্তত দুটি লেন দিয়ে যান চলাচল চালু রাখা হয়েছে। এতে যান চলাচল কিছুটা ধীরগতির হতে পারে, তবে কোথাও থেমে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি হবে না।
পরে রেলমন্ত্রী মতিঝিল বিআরটিসি বাস ডিপো পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ডিপো এলাকার পরিচ্ছন্নতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন এবং ঈদ উপলক্ষে বিআরটিসির বাসসমূহ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।





