স্টাফ রিপোর্টার | ২৪ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যমুনা সেতু ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক দিয়ে উত্তরবঙ্গমুখী মানুষের ঘরে ফেরার চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। বিশেষ করে গাজীপুরের পোশাক কারখানাগুলোতে ছুটি শুরু হওয়ায় মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ আরও বেড়েছে।
রোববার দুপুরে মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের এলেঙ্গা, রাবনা বাইপাস, নগর জলফৈ ও করটিয়া বাইপাস এলাকায় সরেজমিনে যানবাহনের বাড়তি চাপ দেখা গেলেও কোথাও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়নি। যানবাহন স্বাভাবিক গতিতেই চলাচল করছে।
সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ যানবাহন পারাপার হয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৩২ হাজার ৬৪৯টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে।
এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৭৫৩টি। এ খাতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৯ লাখ ৭ হাজার ১৫০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকাগামী ১৫ হাজার ৮৯৬টি যানবাহন থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৫০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত চাপ সামলাতে মোট ১৮টি বুথের মাধ্যমে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে পৃথক ৪টি বুথ।
টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গের ২৩ জেলার যানবাহন চলাচলের কারণে ঈদ এলেই এই মহাসড়কে চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রায় ৮ শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, যানজট নিরসনে জেলা পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্ঘটনা এড়াতে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং প্রতিরোধ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়কে কোনো যানবাহন বিকল হলে দ্রুত সরিয়ে নিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাতটি রেকার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের আশা, সবার সহযোগিতায় এবারের ঈদযাত্রাও স্বস্তিদায়ক হবে।





