ঈদের আগেই শুরু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম: মায়েদের হাতেই সরাসরি অর্থ সহায়তা

অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে উপকমিটি গঠন; এনআইডি ও আইটি ভিত্তিক ব্যবস্থায় পর্যায়ক্রমে ৫০ শতাংশের বেশি পরিবারকে কাভারেজের লক্ষ্য

স্টাফ রিপোর্টার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ উপকমিটির বৈঠকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পরিবারের প্রধান হিসেবে মায়েদের হাতে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি ছোট মন্ত্রিসভা উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিআরডি) এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা সদস্য হিসেবে থাকবেন। আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রস্তাব চূড়ান্ত করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকারের দাবি, এটি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডকে একটি সার্বজনীন কর্মসূচি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে রাজনৈতিক মতাদর্শ, ধর্মীয় পরিচয় বা লিঙ্গভিত্তিক কোনো বৈষম্য না থাকে।

সরকার জানিয়েছে, বর্তমানে যেসব সামাজিক সুরক্ষা কার্ড ও ভাতা চালু রয়েছে সেগুলো বহাল থাকবে। নতুন ফ্যামিলি কার্ড হবে অতিরিক্ত একটি উদ্যোগ। বিদ্যমান ব্যবস্থার তুলনায় দ্বিগুণের বেশি সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই কর্মসূচিতে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা রেফারেল পদ্ধতি থাকবে না। সর্বাধুনিক আইটি ও এনআইডি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি অর্থ মায়েদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে অনিয়মের সুযোগ কমে আসে।

ঈদের আগেই কার্যক্রম শুরু করার আশাবাদ ব্যক্ত করে সরকার জানিয়েছে, ধাপে ধাপে তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি পরিবারকে এর আওতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। কত পরিবার প্রথম পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হবে এবং অর্থের পরিমাণ কত হবে, তা উপকমিটির সুপারিশ চূড়ান্ত হওয়ার পর জানানো হবে।

সরকারের মতে, দেশের ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ নারী। পরিবারে নেতৃত্বদানকারী মায়েদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমেই সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা হবে।