উসকানির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর: আমরা ব্যক্তির বিরুদ্ধে নই, সিস্টেমের বিরুদ্ধে

ঢাকা-৮ আসনে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা এনসিপি প্রার্থীর

স্টাফ রিপোর্টার, জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি

সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে উসকানির অভিযোগের জবাবে এনসিপির নেতা ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা যদি সিম্প্যাথির রাজনীতি করতাম, তাহলে জুলাই মাসেই সবচেয়ে বড় সিম্প্যাথি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা সিম্প্যাথির রাজনীতি করি না।”

তিনি বলেন, “সারা দেশে খালেদা জিয়ার পোস্টার টানানো হয়েছে, নিচে একজনের নাম লেখা। এটা কি সিম্প্যাথির রাজনীতি? আমরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে বা কান্নাকাটি করে রাজনীতি করি না।”

উসকানির অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “আমরা কি কারো গায়ে চিমটি কেটেছি? পানি, ডিম বা ময়লা নিক্ষেপ করেছি? ইট-পাটকেল ছুড়েছি? বরং আমাদের ওপর হামলা হয়েছে, পিছন থেকে এসে ঘুষি মারা হয়েছে। তারপরও বলা হচ্ছে আমরা উসকানি দিচ্ছি—এ কেমন রাষ্ট্র, এ কেমন সমাজ?”

তিনি অভিযোগ করেন, “আপনাদের হাতে মিডিয়া আছে, সোশ্যাল মিডিয়া কন্ট্রোল আছে। আপনারা চাইলে যেকোনো বয়ান তৈরি করতে পারেন। কিন্তু বাস্তবতা মানুষ দেখছে, সাংবাদিকরাও দেখছেন।”

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল বা মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে নই। আমাদের লড়াই সিস্টেমের বিরুদ্ধে। যদি কোনো এলাকায় চাঁদাবাজি চলে আর তার পাহারাদার থাকে, তাহলে সেই সিস্টেমের বিরুদ্ধেই আমাদের ফাইট।”

ঢাকা-৮ আসনে প্রার্থী হওয়ার পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত আমি ঢাকা-১৮ আসনে কাজ করছিলাম। কিন্তু সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে আমাকে ঢাকা-৮ এ আসতে হয়। এখানে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ক্রিটিক্যাল। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি আর দুর্নীতি ছিল প্রতি স্তরে।”

তিনি আরও বলেন, “এই সন্ত্রাস আকাশ থেকে নামে না। সমাজের ভেতরেই কিছু মানুষ এটা করে। আপনারা কি চান না দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বন্ধ হোক? রাতে বের হলে মানুষের নিরাপত্তা নেই। আমি যদি এসবের বিরুদ্ধে কথা বলি, সেটাই কি অপরাধ?”

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, “ঢাকা-৮ আসনকে আমরা পুরো বাংলাদেশের জন্য একটি মডেল বানাতে চাই। মানুষকে আর টাকা দিয়ে ভোট কেনা যাবে না। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। দীর্ঘদিনের যে সাম্রাজ্য চলছিল, সেটা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ভেঙে গেছে।”

শেষে তিনি বলেন, “এই আসনে মির্জা আব্বাস এমপি হলে আমার ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হলো—তিনি কি চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারবেন? সন্ত্রাস বন্ধ করতে পারবেন? দুর্নীতি বন্ধ করতে পারবেন? আমি আজ মিডিয়ার সামনে এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।”