স্টাফ রিপোর্টার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
দেশের মাধ্যমিক স্তরের সবচেয়ে বড় পাবলিক পরীক্ষা মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আগামীকাল ২১ এপ্রিল (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা থেকে সারাদেশে একযোগে শুরু হচ্ছে।
এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২১ হাজার ১১৮ জন।
পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসমুক্ত, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার প্রথমবারের মতো প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষার প্রথম দিন ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দকার এহসানুল কবির জানান, পরীক্ষা আয়োজনে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বোর্ডভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১৪ লাখ ১২ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৫১ হাজার ৯৩ জন।
সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে—৩ লাখ ৬১ হাজার ৩৩৫ জন। এছাড়া রাজশাহী, কুমিল্লা, যশোর, চট্টগ্রাম, বরিশাল, সিলেট, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে অংশ নিচ্ছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন পরীক্ষার্থী।
সারা দেশে ৩ হাজার ৯০২টি কেন্দ্রে ৩০ হাজার ৪২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এবারের পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে।
গত বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৫ সালে পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন, যা কমে এ বছর হয়েছে ১৮ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ জন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন, মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন পরীক্ষার্থী রয়েছে।
প্রযুক্তিগত তদারকি জোরদার করতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি প্রশ্নপত্র পরিবহনে ডিজিটাল ট্র্যাকিং চালু করা হয়েছে। গরমের কথা বিবেচনায় রেখে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্র খোলা রাখা হবে এবং পর্যাপ্ত পানি ও বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। আর ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
কেন্দ্রসচিবদের জন্য জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। কেন্দ্রসচিব ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। ‘নীরব বহিষ্কার’-এর সুযোগ বাতিল করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
পরীক্ষার্থীদের নির্ভয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সবার সফলতা কামনা করেন শিক্ষামন্ত্রী।





