কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি ও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির ওপর জোর সালাউদ্দিন আহমেদের

মৌলিক অধিকার, সংবিধান শিক্ষা, সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার ও বিএনপির আদর্শিক পথচলা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা

ফাইল ছবি

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ৮ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ক আলোচনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্র যেকোনো বিষয়কে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিলে তার শতভাগ নিশ্চয়তা প্রদান করা রাষ্ট্রের বাধ্যবাধকতা। তবে বাংলাদেশ এখনো সেই পর্যায়ের অর্থনৈতিক সক্ষমতায় উন্নীত না হওয়ায় অনেক বিষয় কর্মসূচি ও পরিকল্পনার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্র আর্থিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের নিশ্চয়তা আরও কার্যকরভাবে দিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, দলের প্রতিটি কর্মীকে সংবিধান জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করতে হবে। সহজ ভাষায় সংবিধান শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে ভবিষ্যতে মজলিস-মাহফিলের মতো আয়োজন করে মাস্টার ট্রেনারদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ প্রদানের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

জ্ঞানভিত্তিক, মেধাভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “শুধু স্লোগান দিলেই হবে না; বিরোধীদলে থাকাকালেও জ্ঞানভিত্তিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।” তিনি মনে করেন, সংগঠিত প্রশিক্ষণ ছাড়া এই চর্চা শক্তিশালী করা সম্ভব নয় এবং বিএনপিকে এমনভাবে দক্ষ করে তুলতে হবে যাতে অন্য কোনো সংগঠন তার সমকক্ষ হতে না পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় গালিগালাজ, চরিত্রহনন ও রাজনৈতিক ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশনের প্রবণতা বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, তরুণদেরই যুক্তিনিষ্ঠ প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে এসবের মোকাবিলা করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আমরা যা লিখছি বা বলছি, তাতে দেশের স্বার্থহানি হচ্ছে কি না—সেটাই প্রথম বিবেচনা।”

দলের মূল স্লোগান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ তুলে ধরে তিনি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি, যুদ্ধনীতি, কূটনীতি, দ্বিপাক্ষিক বা বহুপাক্ষিক চুক্তি, আন্তর্জাতিক ট্রিটি—সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশের স্বার্থ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে হবে।

তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে বলেন, জিয়া ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। এ সময় তিনি তারেক রহমানকে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞ ও প্রমাণিত নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তার নেতৃত্ব, জ্ঞান, মেধা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্যই হচ্ছে বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ স্থানে রাখা।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সাংবিধানিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে ভবিষ্যতের একটি দৃঢ় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান সালাউদ্দিন আহমেদ।