খাগড়াছড়ি উত্তেজনা: ভারতের ইন্ধনের অভিযোগ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে মারমা এক ছাত্রীকে দলবেঁধে ধর্ষণের ঘটনার জেরে সৃষ্ট সহিংসতা ও উত্তেজনার পেছনে ‘ভারতের ইন্ধন’ দেখছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

ছবি সংগৃহীত

সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রমনা কমপ্লেক্সে ডিএমপির পাঁচটি থানার প্রশাসনিক কাম-ব্যারাক ভবন নির্মাণ কাজ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নে ভারতের মদদ ও অস্ত্র–অর্থের যোগানের প্রসঙ্গ আসলে উপদেষ্টা বলেন,
“ভাই কিন্তু একটা সত্য প্রশ্ন করেছেন, ভারতের ইন্ধনে বা ফ্যাসিস্টদের ইন্ধনে এই ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটা যেন ঘটাতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় মারমা এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে তিন পার্বত্য জেলায়। শনিবার থেকে ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’ ব্যানারে চলছে অবরোধ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শনিবার দুপুরে গুইমারায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। কিন্তু এর মধ্যেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, একটি বাজারে আগুন দেওয়া হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন।

রোববার রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে এসব সহিংসতার জন্য পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)–কে দায়ী করে।

আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী,
“ইউপিডিএফ এবং এর অঙ্গসংগঠনসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কোমলমতি শিশু ও নারীদের নাশকতায় অংশ নিতে বাধ্য করছে।”

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,

“বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় উৎসব চলছে। এটি শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন না হোক, সেটাই একটি মহল চাচ্ছে। সেই মহলই খাগড়াছড়িতে ঘটনা ঘটাচ্ছে।”

“আমাদের পার্বত্য এলাকার উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।”

“কিছু সন্ত্রাসী পাহাড়ের উপর থেকে ফায়ার করেছে। অনেকে বাইরে থেকে এসেছে। আমি দেশের নাম বলতে চাই না, তবে সাংবাদিক ভাই উল্লেখ করেছেন।”

তিনি দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা বা অবরোধ না করে, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।