স্টাফ রিপোর্টার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে দেশ-বিদেশে গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, রাজনৈতিক নেতৃবন্দসহ সাধারণ মানুষও। বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জেড এম জাহিদ জানান, দেশনেত্রীর চিকিৎসা বর্তমানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলছে, এবং মেডিকেল বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।
পরিবারের সদস্যদের সার্বক্ষণিক তদারকি
ডা. জাহিদ জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় তাঁর নিকট আত্মীয়রা সারাক্ষণ সম্পৃক্ত রয়েছেন। বিশেষ করে তাঁর পুত্রবধূ ডা. জুবায়দা রহমান, ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী সৈয়দা শামিলা রহমান, এবং বোন শামম ইসকান্দার চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দেশের বাইরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও নিয়মিতভাবে মতামত দিয়ে যাচ্ছেন।
রাজনৈতিক দল, সরকার ও রাষ্ট্রপতির খোঁজখবর
তিনি জানান, শুধু বিএনপি নয়—অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও নিয়মিতভাবে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য-অবস্থার খোঁজ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রপতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকেও যোগাযোগ বজায় রয়েছে।
বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত হওয়ার কারণ
ডা. জাহিদ বলেন, কয়েক দিন আগে—গত শুক্রবার—মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে দু’টি বড় কারণের জন্য তখন তাঁকে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়নি:
- এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটি,
- ওই সময়ে বেগম জিয়ার স্বাস্থ্য অবস্থা বিমানযাত্রার জন্য পুরোপুরি উপযোগী না থাকা।
তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। প্রয়োজনে এবং অবস্থা অনুকূলে এলে ভবিষ্যতে তাঁকে দেশের বাইরে নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
“আল্লাহর রহমত, মানুষের দোয়া—এই দুই-ই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা”
ডা. জাহিদ বলেন, “মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের রহমত, মানুষের দোয়া এবং চিকিৎসক-নার্সসহ সংশ্লিষ্ট সবার অব্যাহত প্রচেষ্টাতেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দেশের ১৭ কোটি মানুষ তাঁর জন্য উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন—এটাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।”
তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে আরও বলেন, “আপনারা যারা দোয়া করছেন, রোজা রাখছেন, কোরআন তেলাওয়াত করছেন—দয়া করে এগুলো যেন অব্যাহত রাখেন। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে দেশনেত্রী যেন এই শারীরিক সংকট সফলভাবে অতিক্রম করতে পারেন—এটাই আমাদের প্রার্থনা।”
গুজব ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তিকর ও অতিরঞ্জিত তথ্য ছড়ানো প্রসঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “মানুষের আবেগ স্বাভাবিক, কিন্তু এই আবেগ প্রকাশ করতে গিয়ে যেন আমরা কারো মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করি। বিশেষ করে এমন একজন নেত্রীর ক্ষেত্রে, যাকে নিয়ে দেশের মানুষের এত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জড়িত।”
তিনি আরও যোগ করেন, “একজন রোগীরও ব্যক্তিগত কিছু অধিকার আছে। ইচ্ছা করলেই একজন চিকিৎসক হিসেবে আমি সব তথ্য প্রকাশ্যে বলে দিতে পারি না—এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের নীতির বিরোধী। তবে আপনাদেরকে আমরা শুধু আশ্বস্ত করতে চাই—উনি আইসিইউতে আছেন, এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় একজন রোগীর জন্য যে ধরনের সর্বোচ্চ চিকিৎসা প্রয়োজন, সেটি তিনি পাচ্ছেন।”
চিকিৎসার বর্তমান অগ্রগতি
ডা. জেড এম জাহিদ জানান, বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, তা তিনি গ্রহণ করতে পারছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন।
“আগে যেভাবে তাঁর চিকিৎসা চলেছে, মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় বলতে গেলে, we can continue on maintaining her treatment—অর্থাৎ ডাক্তাররা যে চিকিৎসা দিচ্ছেন, সেটি তিনি গ্রহণ করতে পারছেন এবং তাতে সাড়া দিচ্ছেন,” বলেন তিনি।
তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, সার্বিকভাবে অবস্থাকে এখনো সংকটাপন্ন বলেই বিবেচনা করা হচ্ছে এবং নানামুখী জটিলতার কারণে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।
ডা. জাহিদ সাক্ষাৎকারে শেষবারের মতো দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আপনাদের দোয়া, আপনাদের ভালোবাসা, আপনাদের মানসিক সমর্থন—সবই তাঁর জন্য বড় শক্তি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেন কেউ গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে মানুষের উৎকণ্ঠা না বাড়ায়—আমি আপনাদের মাধ্যমে সেই অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডা. জেড এম জাহিদ এসব বিষয় অবগত করেন।





