ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দোয়া অনুষ্ঠানে রিজভীর অভিযোগ—রাষ্ট্রীয় অবহেলা ও নির্যাতনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এর দায় শেখ হাসিনার
স্টাফ রিপোর্টার | ২ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি | ঢাকা
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের উদ্যোগে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় দোয়া অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়; এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকারের প্রত্যক্ষ অবহেলা, নির্যাতন ও অমানবিক আচরণের মাধ্যমে দেশনেত্রীকে ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। রিজভীর ভাষায়, “বেগম খালেদা জিয়ার পৃথিবী থেকে চলে যাওয়ার দায় শেখ হাসিনার।”
রিজভী বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ঘরে বসে থাকলেও তার উপস্থিতিই আমাদের সাহস জুগিয়েছে। হাসিনার ভয়ংকর দুঃশাসনের সময় গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলার একমাত্র প্রেরণা ছিলেন তিনি।”
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতির জন্য এক বিশাল আশ্রয়ের মতো। ঠিক যেমন একটি পরিবারে মায়ের উপস্থিতি সন্তানদের সাহস জোগায়, তেমনি দেশনেত্রী ছিলেন সমগ্র জাতির জন্য নিরাপত্তা ও ভরসার প্রতীক।
রিজভী বলেন, “দেশনেত্রী কখনো হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে যাননি। তিনি সত্যিকার অর্থেই গোটা জাতির মা।”
খালেদা জিয়ার অসাম্প্রদায়িক অবস্থানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কোনো আবেগপ্রসূত বক্তব্য নয়। ইউটিউব ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকা তার বক্তব্যে প্রমাণ মেলে—এই দেশ হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও উপজাতি সবার।
ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একই সঙ্গে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক। প্রকৃত অর্থে একজন ধর্মপ্রাণ মানুষ কখনো সাম্প্রদায়িক হতে পারে না। তিনি ছিলেন আধুনিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক জাতীয় নেতা, যার আশ্রয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ নিরাপত্তা ও ভরসা পেত।
রিজভী বলেন, “একজন সুস্থ নারী জেলখানায় প্রবেশ করে সেখান থেকে ফিরলেন লাশের মতো হয়ে। ওষুধ, খাবার সবকিছুতেই ছিল অবহেলা ও নির্যাতন। এটি ছিল পরিকল্পিত। তাই আমি বলি, এটি শেখ হাসিনার হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।”
তিনি আরও বলেন, তৎকালীন সরকারের যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারাই এই কাজটি করেছে। দেশনেত্রীকে চক্রান্ত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব তুলে ধরে রিজভী বলেন, তিনি ছিলেন সজ্জন ও স্বল্পভাষী। রাজনৈতিক কটুক্তির জবাবে কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহার করেননি। তার সাংস্কৃতিক উচ্চতা ছিল অনন্য।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়া প্রমাণ করে গেছেন সততা, নিষ্ঠা ও অঙ্গীকারই প্রকৃত রাজনীতি। ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রজন্ম ইতিহাস থেকে শিখবে একজন নেতা কীভাবে মর্যাদাশীল রাজনীতি করেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অপর্ণা রায়-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, সদস্য মাহবুবুর রহমান, দেবাশীষ রায় মধু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল, বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।





