জনগণ হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

ই-বেইলবন্ড চালুর মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত করার উদ্যোগ; সারাদেশে ডিজিটাল বিচারব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা

স্টাফ রিপোর্টার | ২০ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পর দেশে জনগণের সরাসরি ভোটে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিতামূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর ফলে জনগণ তাদের হারানো গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।

সোমবার সকাল ১১টায় বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ‘ই-বেইলবন্ড’ সিস্টেমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে সরকার দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন বিভাগ, শাসন বিভাগ ও বিচার বিভাগের সমন্বয় ছাড়া ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়েছিল এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর।

ই-বেইলবন্ড পদ্ধতি চালুর ফলে জামিন প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগে একটি জামিননামা সম্পন্ন করতে বহু ধাপ পার হতে হতো, কিন্তু এখন অনলাইনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে তা সম্পন্ন হচ্ছে। এতে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমবে এবং জালিয়াতির সুযোগও হ্রাস পাবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সব আদালতে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। ইতোমধ্যে বগুড়াসহ সাত জেলায় এটি চালু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট, রিলিজ অর্ডারসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

তারেক রহমান বলেন, ন্যায়বিচার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে সবাই সমানভাবে ন্যায়বিচার পাবে।

এ সময় তিনি কারাগারে বিনাবিচারে আটক থাকা মানুষের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দেন।