তেলের দাম সমন্বয় আইএমএফ-এর শর্তে নয়: অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী

বিশ্ববাজারের অস্থিরতাকে দায়ী করলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার | ১৯ এপ্রিল ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে মূলত বিশ্ববাজারের অস্থিরতার কারণে; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কোনো শর্ত পূরণের জন্য নয়।

তিনি বলেন, ‘আইএমএফ-এর শর্তের সাথে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আইএমএফ-এর মিটিংয়ে যাওয়ার আগেই তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

আজ সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-সহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সারা দুনিয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। আমেরিকাতে দাম দ্বিগুণ হয়েছে, শ্রীলঙ্কায় বেড়েছে ২৫ শতাংশ।’

তিনি আরও বলেন, জাতীয় তহবিলের ওপর তীব্র চাপ থাকা সত্ত্বেও জনগণের স্বার্থে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তেলের দাম না বাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। তবে বাজেট ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে খুবই নগণ্য হারে মূল্য সমন্বয় করতে হয়েছে।

আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ঋণ ও সহযোগিতার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো শর্ত গ্রহণ করা হবে না।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাই জনগণ বা ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।’

মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তেলের দাম সামগ্রিক অর্থনীতির একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র এবং মূল্যস্ফীতি মূলত সরবরাহ ও চাহিদার ওপর নির্ভরশীল।

সরকার পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করে এর প্রভাব সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগীরা একমত এবং তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

বিশেষ করে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’সহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

শীঘ্রই বিশ্বব্যাংক ও এডিবির প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফরে আসবেন বলেও তিনি জানান।