নিউইয়র্ক, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, তাঁর সরকার আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নাগরিকবান্ধব সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে বাংলায় প্রদত্ত ভাষণে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে নাগরিকবান্ধব সংস্কার চালিয়ে যাচ্ছি।”
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিতে জন্ম নিয়েছিল, কিন্তু বারবার সেই অধিকার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর অনুষ্ঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এ তরুণ সমাজ স্বৈরশাসনকে পরাভূত করেছিল এবং সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সংস্কারের দায়িত্ব তাঁর ও সহকর্মীদের ওপর অর্পিত হয়েছে।
তিনি জানান, রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনে নির্বাহী আদেশে পরিবর্তনের সহজ পথ না বেছে সরকার নিয়েছে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কারের কঠিন পথ। এর অংশ হিসেবে শাসনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি দমন ও নারী অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সংস্কারের জন্য ১১টি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়েছে।
অধ্যাপক ইউনূস আরও জানান, সংস্কারগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়নে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশন গঠন করা হয়েছে, যারা ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে আলোচনা করেছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচনে যেই দলই জনগণের সমর্থন পাক না কেন, সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে আর কোনো অনিশ্চয়তার অবকাশ থাকবে না।”





