স্টাফ রিপোর্টার | ৭ জুন ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, দক্ষতা উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সুনাগরিক তৈরির অন্যতম প্রধান সূতিকাগারে পরিণত করা হবে।
রোববার সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে ‘দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা’ বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
মাহদী আমিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর একটি টেকসই, বাস্তবসম্মত ও যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা রয়েছে। উচ্চশিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মমুখী, দক্ষতাভিত্তিক ও জীবনঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ, ক্যারিয়ার সেন্টার ও জব প্লেসমেন্ট কার্যক্রম চালু, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষানবিশ ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ সম্প্রসারণ, ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র স্থাপন এবং তৃতীয় ভাষা শিক্ষার প্রসারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচি এবং পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২৮৫টি কলেজে বর্তমানে ৩০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। চলতি বছরেই চার লাখের বেশি ছাত্রী বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়েছে, যা নারীর ক্ষমতায়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট বের হলেও তাদের অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন না। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গুণগত রূপান্তর কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবর্তন নয়; বরং এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং লাখো পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তৃণমূল পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাহন। জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত এই শিক্ষা কাঠামোকে শক্তিশালী করা হলে স্থানীয় সম্ভাবনার বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
সেশনজট নিরসনের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পরীক্ষা ও ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দ্রুত সেশনজট কমিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ ও মানসম্মত একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে মাহদী আমিন বলেন, ১৯৯২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল উচ্চশিক্ষাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।
তিনি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর, সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটির উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উৎকর্ষ, নেতৃত্ব ও মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।





