স্টাফ রিপোর্টার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং রফিকুল ইসলাম খান।
বৈঠকে উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
বৈঠকে নির্বাচনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে প্রচারণা ইতোমধ্যেই শুরু করেছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে দুই ধরনের ক্যাম্পেইন একসঙ্গে চলবে বলে তাঁরা জানান।
এ সময় জামায়াতে ইসলামীর নেতারা নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবো; সরকারের যদি কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকে, নেবো।”
নির্বাচনী কেন্দ্রগুলো দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে এবং এগুলো জানুয়ারির মধ্যেই ইনস্টল করা হবে। ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরাও থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এসব মনিটর করা হবে এবং ফুটেজ সংরক্ষণ করা থাকবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্রই ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার-প্রচারণা আইনসম্মত কি না—এ বিষয়ে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে থাকা।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সকলে— সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল— আমাদের সবার।” এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
তিনি জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে, যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
শেষে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের জন্য একযোগে কাজ করার লক্ষ্যে নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন—সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।





