মো:মিজানুর রহমান , ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সুপরিচিত হলেও ডা. জোবায়দা রহমানের ব্যক্তিগত ও পেশাগত পরিচয় অনেকের কাছেই এখনো বিস্ময় জাগায়। তিনি শুধু জিয়া পরিবারের পুত্রবধূ বা বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী নন—চিকিৎসা শিক্ষা ও কর্মজীবনে তিনি নিজ যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত একজন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসক।
ডা. জোবায়দা রহমান লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইম্পেরিয়াল কলেজে মেডিসিন বিভাগে এমএসসি সম্পন্ন করেন রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদকসহ। চিকিৎসা শিক্ষায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের পর দেশে ফিরে তিনি চিকিৎসকদের বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন করেন এবং ১৯৯৫ সালে প্রজাতন্ত্রের চিকিৎসক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন।
সিলেটের প্রভাবশালী জমিদার ও বুদ্ধিজীবী পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নারীর পরিবারিক বংশধারাও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তার পরিবারে রয়েছে সামরিক, প্রশাসনিক, আইনি, চিকিৎসা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের ঐতিহ্য।
ডা. জোবায়দা রহমান: পরিবারিক পরিচয়
নাম: ডা. জোবায়দা রহমান
স্বামী: তারেক রহমান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, বিএনপি
শ্বশুর: লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রপতি
শাশুড়ী: বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক প্রধানমন্ত্রী
পিতৃকুল
পিতা: রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান — সাবেক নৌবাহিনী প্রধান, সাবেক মন্ত্রী
মাতা: সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু — সমাজসেবায় স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত; “সুরভি”–র চেয়ারপার্সন, ৬৮ হাজার গ্রামে ৩০ লক্ষাধিক দরিদ্র শিক্ষার্থীকে সহায়তার উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন
ঐতিহ্যবাহী বংশপরিচয়
দাদা: আহমেদ আলী খান — ভারতবর্ষের প্রথম মুসলিম ব্যারিস্টার, আসাম কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট, নিখিল ভারত আইন পরিষদ সদস্য, হায়দরাবাদ নিজামের প্রধান আইন উপদেষ্টা
দাদী: জুবাইদা খাতুন — অবিভক্ত আসাম-বিহার–উড়িষ্যার জমিদার পরিবার
প্রপিতামহ: ডা. খান বাহাদুর আজদার আলী খান — চিকিৎসা শিক্ষার পথিকৃৎ, বিহার ও আসাম মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাতা
আরেক প্রপিতামহ: সিলেট অঞ্চলের প্রথম মুসলিম সিভিল সার্জনদের একজন, সৈয়দ আমীর আলীর জামাতা
পরিবারের অন্যান্য বিশিষ্ট সদস্য
চাচা ১: জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী — মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক
চাচা ২: আজমল আলী — অবিভক্ত পাকিস্তানের মন্ত্রী
চাচা ৩: ডা. সেকেন্দার আলী খান
চাচাতো বোন: আইরিন খান — অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক মহাসচিব
এই বহুমাত্রিক পরিচয়গুলো একত্রে ডা. জোবায়দা রহমানকে বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ ও চিকিৎসা অঙ্গনে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচনা–যোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে।
সাবেক এমপি সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া এই তথ্যসমৃদ্ধ পরিচয়টি “কার্টেসি” দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন।






