স্টাফ রিপোর্টার, ২ জুন ২০২৬, নিউজ চ্যানেল বিডি।
ঢাকা মহানগরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গাফিলতির অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনে উঠে আসে পুরোনো আবর্জনার চিত্র
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা প্রায় চার ঘণ্টা ঘুরে দেখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি শুধু ঈদ-পরবর্তী বর্জ্য নয়, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা আবর্জনার স্তূপও দেখতে পান। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলছে।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
প্রতিমন্ত্রী জানান, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ডেঙ্গু মশার লার্ভা উৎপাদনের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিষ্কার করতে দুই সিটি কর্পোরেশনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিলে বিশেষ নজর
আজ গুলশান লেক, বনানী লেক ও হাতিরঝিলের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব এলাকায় পরিষ্কারের কাজ চলমান রয়েছে, তবে পুরোপুরি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় আনতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন।
লেক দূষণের প্রধান কারণ সুয়ারেজ সংযোগ
প্রতিমন্ত্রীর মতে, রাজধানীর বিভিন্ন সুয়ারেজ লাইন সরাসরি লেক ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। ফলে পরিষ্কার করার পরও অল্প সময়ের মধ্যে আবার ময়লা জমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সুয়ারেজের বর্জ্যের কারণে লেকের পানি দূষিত হচ্ছে, দুর্গন্ধ সৃষ্টি হচ্ছে এবং জলজ পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
ছয় মাসের মধ্যে এসটিপি স্থাপনের উদ্যোগ
সমস্যা সমাধানে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজধানীর বিভিন্ন হাউজিং সোসাইটিতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন করতে হবে।
এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে অপরিশোধিত বর্জ্য সরাসরি ড্রেন ও জলাশয়ে ফেলা বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী
শাহে আলম বলেন, শুধু সরকার বা সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। এ কাজে নগরবাসীরও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি নাগরিকদের উদ্দেশে বলেন, নির্ধারিত ডাস্টবিন ছাড়া অন্য কোথাও ময়লা না ফেলতে এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে।
জনপ্রতিনিধির অভাবে তদারকিতে ঘাটতি
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওয়ার্ডভিত্তিক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত তদারকি ও নজরদারির ঘাটতি তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করলেও স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত তদারকি সম্ভব হয়নি।
তবে গত দুই মাসে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে গতি এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ইঙ্গিত
তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে কাজ করছে। আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তার মতে, ঢাকার মতো বৃহৎ মহানগরে দ্রুত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত হবে।
চলমান থাকবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতা কোনো একদিনের কাজ নয়। প্রতিদিন ময়লা তৈরি হবে, প্রতিদিনই তা অপসারণ করতে হবে। বিশেষ করে ডেঙ্গু মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন, রাজউক ও ওয়াসার সমন্বিত উদ্যোগে রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং ঢাকা শহরকে আরও বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





