ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ : গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের অনেক আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় রান্নার সময় এ সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে, ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
গ্যাসের চাপ হঠাৎ কেন কমে গেল—এমন প্রশ্নে তিতাস গ্যাসের হটলাইন (১৬৪৯৬) এ যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন লাইনে চাপ কম থাকায় আবাসিক এলাকাগুলোতে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “গ্যাসের সঞ্চালন লাইনে কাজ চলছে। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে এক্সাক্ট সময় বলা যাচ্ছে না।”
তিতাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুব দ্রুত জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করতে কাজ করা হচ্ছে এবং গ্রাহকের ভোগান্তি কমানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।
গ্যাস সংকটের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যাসের চাপ কমার পেছনে কয়েকটি বড় কারণ রয়েছে—
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম: দেশে দৈনিক প্রায় ৪,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।
এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত: মহেশখালী ভাসমান টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি, মেরামত কাজ বা বৈরী আবহাওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহ কমে যায়।
পাইপলাইনের ত্রুটি: পুরনো ও জীর্ণ পাইপলাইনে ছিদ্র ও ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহে সমস্যা হয়।
অবৈধ সংযোগ: অবৈধ সংযোগের কারণে মূল লাইনে চাপ কমে গিয়ে বৈধ গ্রাহকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে অগ্রাধিকার: বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্পখাতের চাহিদা বেশি হওয়ায় প্রায়শই আবাসিক খাতের চেয়ে সেখানে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
গ্রাহকদের ভোগান্তি
গ্যাস সংকটে সাধারণ মানুষ পড়েছেন নানামুখী দুর্ভোগে। দিনের বেলায় চুলায় গ্যাস থাকে না বললেই চলে। অনেকে বাধ্য হয়ে হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন কিংবা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন—যা তাদের মাসিক খরচ অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার কেউ কেউ রাতে রান্না করে দিনের খাবার মজুত রাখছেন।
গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “আমরা নিয়মিত বিল পরিশোধ করি, কিন্তু পর্যাপ্ত গ্যাস পাই না। এটা ভীষণ অন্যায়।”





