ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়ন শুরু হচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ডাবল রেললাইন, সড়ক সংস্কার ও স্বাস্থ্যখাতে বড় পরিকল্পনার ঘোষণা

স্টাফ রিপোর্টার | ০২ মে ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রুটে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ শুরু করছে।

শনিবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় যাতায়াতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকার কারণে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রচারণার সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার গঠনের পরই এই সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। বিশেষ করে কয়েকটি স্থানে সাইট অফিসের জন্য জমি সংক্রান্ত সমস্যা এখনো সমাধান হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এসব সমস্যা সমাধানে কাজ করছে এবং দ্রুত প্রকল্প শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ঢাকা-সিলেট সড়ক উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করা হবে। এতে এ রুটে যাতায়াত অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।

রেলপথের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু সড়ক সম্প্রসারণ করলে যানবাহনের চাপ বাড়ে এবং কৃষিজমি নষ্ট হয়। তাই সরকার রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, ঢাকা-সিলেট রুটে ডাবল রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে কম খরচে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে।

স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যাদের অধিকাংশই নারী।

তিনি আরও জানান, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে, যা ভবিষ্যতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সিলেটে শিল্প-কারখানা সম্প্রসারণ ও আইটি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিলেটের জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা বন্ধে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে এবং সিটি কর্পোরেশনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্রীড়া উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগে চালু হওয়া ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকতায় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চালু করা হবে, যার মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতিভাবান শিশুদের খুঁজে বের করা হবে।

সরকারের মেয়াদ অল্প হলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ—সবার আগে বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে ধারণ করেই সরকার দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে কাজ করছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদের হুইপসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী চাঁদনি ঘাট এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধন ও বন্যা প্রতিরোধ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন এবং সফরের শুরুতে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।