তারেক রহমান: “মানুষের ভাগ্য, পরকাল বা অদৃশ্য নিয়তি নিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া শিরকের পর্যায়ে পড়ে”

ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও ভুয়া প্রতিশ্রুতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কতা

স্টাফ রিপোর্টার, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫, নিউজ চ্যানেল বিডি।

ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা, প্রতিশ্রুতি-বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক ভুয়া আশ্বাসের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন— “যা আল্লাহর এখতিয়ার—সেটি নিয়ে কেউ প্রতিশ্রুতি দিলে সে শিরক করছে। আর যে ব্যক্তি তা বিশ্বাস করে, সেও শিরকের ঝুঁকিতে পড়ে।”

তিনি অভিযোগ করেন—রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থে কিছু মানুষ এমন সব ‘গ্যারান্টি’ ও ‘টিকিট’ দিচ্ছে, যা ইসলামের শিক্ষার সরাসরি পরিপন্থী। তারেক রহমান বলেন, “কে জান্নাতে যাবে, কার ভাগ্যে কী আছে, কে কোথায় মারা যাবে—এগুলো আল্লাহ ছাড়া কেউ নির্ধারণ করতে পারে না। মানুষ এসব নিয়ে নিশ্চয়তা দিলে তা আল্লাহর অধিকারে হস্তক্ষেপ।”

তিনি ছাত্রদলকে নির্দেশ দেন—“ঘরে ঘরে গিয়ে বলতে হবে—এগুলো শিরক। মানুষকে প্রতারিত করা বন্ধ করতে হবে।”

দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ—রাষ্ট্র রক্ষার প্রধান শর্ত

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, “দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে কোনো রাষ্ট্র টিকতে পারে না।” তিনি ব্যাখ্যা করেন, বিএনপি সরকার ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে দুর্নীতির অবনতি থামিয়ে উন্নতির দিকে নিয়ে যায়। আন্তর্জাতিক সূচকেও এর স্বীকৃতি রয়েছে। স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর দেশকে দুর্নীতির জঞ্জাল থেকে বের করে আনা বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ অর্জন ছিল।

তারেক রহমান বলেন, “যদি দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়, তবে সেটা কেবল বিএনপির পক্ষেই সম্ভব—অতীতে করেছি, ভবিষ্যতেও করব ইনশাল্লাহ।”

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ—রাষ্ট্রের শ্বাসফেলা

তিনি মনে করিয়ে দেন, বিএনপি সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাষ্ট্রের স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী স্বৈরাচারী শাসকেরা ওই বাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে দেশকে কলঙ্কিত করেছে।

নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন—এক রিকশাচালক তাকে বলেছিলেন, “আপনাদের সময়ে আমরা ভয় ছাড়া রাস্তায় চলতে পারি। নিরাপত্তা পাই।”

তারেক রহমানের মতে, “সাধারণ মানুষের মুখের এ কথা প্রমাণ করে—শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে বিএনপি-ই সক্ষম।”

রাজনৈতিক অপপ্রচার ও আদালতের নিরপেক্ষতা

তিনি জানান, স্বৈরাচারের আমলে আদালতকে প্রভাবিত করা হতো। এখন আদালত মোটামুটি নিরপেক্ষ এবং সেখানেও বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণিত হয়নি। তার দাবি, যারা আজ বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার করছে, তাদের মধ্যে অনেকেই একসময় বিএনপি সরকারের অংশ ছিল এবং শেষ দিন পর্যন্ত সরকারের সঙ্গেই ছিল, কারণ তারা খালেদা জিয়ার সততা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত ছিলেন।

দেশ গড়ার ইতিহাস—জিয়া ও খালেদা জিয়ার ভূমিকা

বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর দুর্ভিক্ষগ্রস্ত বাংলাদেশকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পর আবার দেশ পুনর্গঠনে বেগম খালেদা জিয়া নেতৃত্ব দেন। ২০০১ সালের পর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত রাষ্ট্রকে পুনরুদ্ধার করাও ছিল তার সরকারের বড় সাফল্য।

সংস্কার ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন

ছাত্রদলের আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ যে বিষয়গুলো এসেছে—তরুণদের কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের কৃষি কার্ড, প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, খাল খনন ও পরিবেশ উন্নয়ন—এসব বাস্তবায়ন হলে মানুষের ভাগ্য বদলাবে, আর জনগণের ভাগ্য বদলানো মানেই দেশের ভাগ্য বদলানো।

স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার

তারেক রহমান বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডার অনুকরণে নয়, বরং নিজের পায়ে দাঁড়ানো স্বাবলম্বী একটি বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” তার মতে, দেশের ভেতরেই কর্মসংস্থানের সুযোগ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে বিএনপির লক্ষ্য।

ছাত্রদলকে সাংগঠনিক নির্দেশনা

তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গ্রাম থেকে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে হবে; ঘরে ঘরে গিয়ে বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানাতে হবে। কৃষক, নারী, তরুণ, শিক্ষক—সবার কাছে উন্নয়নের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।

তারেক রহমান বলেন, “তোমরা বিএনপির এম্বাসেডর—মানুষের কাছে সত্য পৌঁছে দেওয়া তোমাদের দায়িত্ব।”

ধর্মীয় সচেতনতা ও সতর্কতা

বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি আবারও ধর্মীয় প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলেন, “যারা আল্লাহর এখতিয়ারে হস্তক্ষেপ করে, তারা মানুষকে বিপথে নেয়। ছাত্রদলকে এই বিষয়টি দেশের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “তোমরা যদি এই দায়িত্ব পালন করতে পারো, জনগণের রায় বিএনপির পক্ষেই আসবে, আর আমরা দেশ গড়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব ইনশাল্লাহ।”