স্টাফ রিপোর্টার | ৪ জানুয়ারি ২০২৬ | নিউজ চ্যানেল বিডি
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১ হাজার ২৫৩ টাকা। তবে বাস্তবে খুচরা বাজারে সেই গ্যাস কিনতে হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত দাম দিয়েও চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
ব্যবসায়ীরা এই সংকটের জন্য এলপিজি পরিবহনে জাহাজ সংকটকে দায়ী করলেও বিশ্লেষকদের মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে বিইআরসি ও স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবই মূল কারণ।
দীর্ঘ এক দশক ধরে রাজধানীর বনশ্রীতে ব্যবসা করছেন ‘এল পিজি ব্যাবসায়ী রহমতউল্লাহ, তিনি নিউজ চ্যানেল বিডি কে জানান, এলপিজি গ্যাসের চাহিদা ও যোগানের এমন সংকট আগে কখনো দেখেননি।
“চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাচ্ছি না। বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। এখনো নতুন দামে গ্যাস আসেনি। আমাদের এখানে গ্যাস নাই। গতকাল বিএমএ-তে গাড়ি পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনো আসে নাই। বলা হচ্ছে সমস্যা সমাধান হলে গ্যাস দেওয়া হবে,” বলেন তিনি।
ক্রেতারাও একই অভিযোগ করছেন। গৃহস্থালী রান্নায় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার বিইআরসি নির্ধারিত দামে না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা। গেল দুই সপ্তাহ ধরে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।
এর প্রভাব পড়েছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ও। এক ব্যবসায়ী জানান, “সকালে রুটি ও পরোটা স্ট্যান্ড বন্ধ ছিল। ১ হাজার ৪০০ টাকার গ্যাস আমাদের ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, তারপর দোকান চালু করেছি। লাইনের গ্যাস নেই, বোতলের গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।”
তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর শীত মৌসুমে গ্যাসের সংকট বাড়ে। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলপিজি আমদানিতে জাহাজ সংকট, যার ফলে বাজারে সিলিন্ডারের যোগান কমেছে অন্তত ৪০ শতাংশ।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, শিগগিরই এই সংকট কেটে যাবে। এলপিজি খাত সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি জানান, “ডিসেম্বর থেকে বাজারে এলপিজির ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কয়েকজন অপারেটরের সরবরাহে সাময়িক সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সব মার্কেটে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা করছি।”
এদিকে বাজার পর্যবেক্ষণে বিইআরসির কার্যকর ভূমিকা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি করা আইনত অপরাধ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিইআরসি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া নিশ্চিত করা কমিশনের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের বাজার তদারকি আরও জোরদার করা জরুরি।





