পল্লবীতে যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যা: গ্রেফতার দুইজনের জবানবন্দিতে বেরিয়ে আসছে নতুন তথ্য

শুটার ভাড়া, আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়েই রক্তাক্ত কিলিং মিশন

Posted by:

on

স্টাফ রিপোর্টার, ১৭ নভেম্বর, নিউজ চ্যানেল বিডি।

রাজধানীর পল্লবীতে হার্ডওয়্যার দোকানে প্রবেশ করে একের পর এক গুলি চালিয়ে যুবদল থানা কমিটির সদস্য সচিব গোলাম কিবরিয়াকে হত্যার ঘটনায় নতুন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া তিন শুটারের একজন জনি ভুইয়া ঘটনাস্থলেই জনতার হাতে ধরা পড়ে। তার জিজ্ঞাসাবাদে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জড়িতদের পরিচয় জানতে পারে। পরদিন কিবরিয়ার স্ত্রী পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৩ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

ঘটনার পর থেকেই পুলিশ ও র‍্যাব সমান্তরাল তদন্ত শুরু করে। মঙ্গলবার রাতভর আশুলিয়ার বিরুলিয়া ও টঙ্গি এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় মনির হোসেন ওরফে ‘পাতা সোহেল’ এবং সুজন ওরফে ‘বুক পড়া সুজন’। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পায় র‍্যাব।

র‍্যাব জানায়, পাতা সোহেলের পরিকল্পনায় কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়। তার সঙ্গে ছিলেন সুজন। কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দেন পাতা সোহেলের ভাগ্নে মাসুম। শুটার হিসেবে ভাড়া করা হয় জনি, রকন ও কাল্লুকে। মিরপুরের আলোচিত ‘ফোরস্টার গ্রুপ’-এর শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নির্দেশেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে জানায় র‍্যাব।

তারা জানায়, পাতা সোহেল এই শুটারদের টাকা দিয়ে ভাড়া করে। গ্রেফতার জনিকে ৩০ হাজার টাকা চুক্তি অনুযায়ী দেওয়া হয় এবং ঘটনার দিন তাকে ১,০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল। র‍্যাব আরও জানায়, ‘ফোর স্টার’ গ্রুপের সন্ত্রাসী মামুন, কিলার ইব্রাহিম, শাহাদাত এবং মুক্তারের ছত্রছায়ায় দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সঙ্গে কিবরিয়ার একসময় ভালো সম্পর্ক ছিল। তবে ৫ আগস্টের পর সম্পর্কের অবনতি ঘটে। চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন—এই দুই কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে ধারণা তদন্ত সংশ্লিষ্টদের।

র‍্যাব বলছে, “মিরপুরকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা—এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে নিহত কিবরিয়া সহযোগিতা না করায়, একটি বড় বিরোধ তৈরি হয়।

পাশাপাশি রাজনৈতিক মেরুকরণের পর তিনি আগের সম্পর্কের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ায় বিরোধ আরও বাড়ে।”

র‍্যাব জানায়, হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলছে এবং বাকি জড়িতদের আটকের প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে।